পুজোয় বাড়ি ফেরার তাড়ায় স্পেশাল ট্রেনে কাটবেন ভাবছেন? বড় ধাক্কা খেতে পারেন, রেলের এই নিয়মটা জানেন কি?

গোটা দেশ জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। দুর্গাপুজো, নবরাত্রির পর এবার সামনেই দীপাবলি ও ছট পুজো। ভিনরাজ্যে কর্মরত বহু মানুষই এই সময়ে বাড়ির পথে পা বাড়াচ্ছেন। যাত্রীদের অতিরিক্ত ভিড় সামাল দিতে এবং টিকিটের হাহাকার মেটাতে ভারতীয় রেল ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে প্রচুর স্পেশাল ট্রেন চালানোর ঘোষণা করেছে। কিন্তু নিয়মিত ট্রেনের মতোই কি এই স্পেশাল ট্রেনগুলিতেও তৎকাল টিকিট বুক করা যায়? টিকিট বাতিল করলে কি মিলবে টাকা? এই নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের মনে রয়েছে নানা প্রশ্ন। রেলের নিয়মকানুন না জানলে বড় বিপদে পড়তে হতে পারে।
স্পেশাল ট্রেনে কি তৎকাল টিকিট বুক করা যায়?
সাধারণ মানুষের মনে এই প্রশ্নটিই এখন সবচেয়ে বড়। রেলের নিয়ম অনুযায়ী, সমস্ত স্পেশাল ট্রেনে তৎকাল টিকিটের সুবিধা থাকে না। কোনও নির্দিষ্ট স্পেশাল ট্রেনে যদি তৎকাল কোটা চালু থাকে, তবেই কেবল তৎকাল টিকিট বুক করা সম্ভব। অন্যথায় স্পেশাল ট্রেন মানেই যে তৎকাল টিকিট পাওয়া যাবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে, শূন্য (০) দিয়ে শুরু হওয়া ট্রেন নম্বর অর্থাৎ জিরো-জিরো সিরিজের বহু স্পেশাল ট্রেনেই তৎকাল কোটা থাকে না। তাই টিকিট কাটার আগে অবশ্যই আইআরসিটিসি (IRCTC)-র সরকারি ওয়েবসাইট বা অ্যাপে সংশ্লিষ্ট ট্রেনের কোটা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
তৎকাল বুকিংয়ের সময় ও নিয়ম
যদি কোনো নির্দিষ্ট স্পেশাল ট্রেনে তৎকাল কোটার ব্যবস্থা থাকে, তবে তার বুকিংয়ের সময়সীমা নিম্নরূপ:
এসি ক্লাস (AC Class): যাত্রার আগের দিন ঠিক সকাল ১০টা থেকে তৎকাল টিকিট বুকিং শুরু হয়।
স্লিপার ও নন-এসি ক্লাস (Sleeper & Non-AC): যাত্রার আগের দিন সকাল ১১টা থেকে বুকিং প্রক্রিয়া শুরু হয়।
পিএনআর লিমিট: তৎকাল প্রকল্পের নিয়মানুযায়ী, একটিমাত্র পিএনআর (PNR)-এর অধীনে সর্বোচ্চ ৪ জন যাত্রীর টিকিট বুক করা সম্ভব। তৎকাল টিকিটের সংখ্যা অত্যন্ত সীমিত থাকায় বুকিং উইন্ডো খোলার সঙ্গে সঙ্গেই নিমিষেই আসন শেষ হয়ে যায়।
টিকিট বাতিল করলে কি রিফান্ড পাওয়া যায়?
তৎকাল বা স্পেশাল ট্রেনের টিকিট বুক করার পর তা বাতিল করলে রিফান্ডের নিয়মে কিছু কড়া শর্ত রয়েছে:
১. যাত্রী নিজে থেকে কোনো কনফার্মড টিকিট বাতিল করলে সাধারণত কোনো টাকাই ফেরত (Refund) পাওয়া যায় না। ২. ওয়েটিং লিস্টের (Waiting List) টিকিটের ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ টাকা ফেরত পাওয়ার নিয়ম রয়েছে। এছাড়া রেল কর্তৃপক্ষ নিজেই যদি ট্রেন বাতিল করে, তবে নিয়মানুযায়ী পুরো টাকাই রিফান্ড করা হয়। ৩. ট্রেন যদি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে ৩ ঘণ্টার বেশি দেরিতে রওনা দেয় এবং যাত্রী সেই কারণে যাত্রা না করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে নির্দিষ্ট শর্ত ও পদ্ধতি মেনে সম্পূর্ণ টাকা ফেরতের দাবি জানানো যেতে পারে।