“জাতীয় পতাকা ওড়ানো কি অপরাধ?”-শর্তসাপেক্ষ জামিনে মুক্ত অভিজিৎ দীপকে

কড়া নিরাপত্তার মধ্যে শর্তসাপেক্ষ জামিনে মুক্তি পেলেন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শুক্রবার নিজের বাড়ির কাছ থেকে পুলিশ তাঁকে আটক করার পর শনিবার বিশেষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তোলা হয়। সেখানে পুনরায় ‘পিস বন্ডে’ (শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা) স্বাক্ষর করিয়ে তাঁকে মুক্তি দেয় দিল্লি পুলিশ।

ঘটনার সূত্রপাত শুক্রবার। নির্বাচন কমিশনের ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR)-এর বিরুদ্ধে কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘লহরাও দো তিরঙ্গা’ নামক একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই আটক হন সিজেপি প্রধান। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে দিল্লির মধ্যাঞ্চলে আগেই ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা জারি করেছিল পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা ও শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় অভিজিতের বিরুদ্ধে ১৬৩, ১২৬ ও ১৭০ ধারায় নতুন করে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।

গ্রেফতারির আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন আইনজীবীর: অভিজিতের এই আটককে সম্পূর্ণ ‘বেআইনি’ বলে দাবি করেছেন সিজেপির আইনি বিভাগের প্রধান রত্না সিংহ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে জাতীয় পতাকা ওড়ানোর আহ্বান জানানো কীভাবে অপরাধ হতে পারে?” একই সঙ্গে পুলিশ ইচ্ছাকৃতভাবে অভিজিতের অবস্থান জানাতে দেরি করেছে এবং আইনজীবীদের তাঁর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি বলেও গুরুতর অভিযোগ আনেন তিনি।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত ১০ অক্টোবর দিল্লি বিমানবন্দর থেকে একটি বিমানের ভেতর থেকে অভিজিৎকে আটক করা হয়েছিল। সে বারও এক বছরের জন্য শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার মুচলেকা দিয়ে তাঁকে ছাড়তে হয়েছিল।

মুক্ত পেলেন ছাত্রনেত্রী নেহা বোরাও-ও: একই প্রতিবাদ কর্মসূচির জেরে আটক হওয়া সর্বভারতীয় ছাত্র সংগঠন ‘আইসা’ (AISA)-র সভানেত্রী নেহা বোরাওকে শনিবার ভোরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। পুলিশি পদক্ষেপকে ‘বেআইনি’ আখ্যা দিয়ে নেহা দাবি করেন, অবিলম্বে ভোটার তালিকার এই সংশোধন বন্ধ করতে হবে এবং একই সাথে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।

দিল্লি পুলিশের বক্তব্য: দিল্লি পুলিশ সূত্রের খবর, রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক যান চলাচল বজায় রাখতে প্রায় ১৫০ জনকে আটক করা হয়েছিল। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেন্ট্রাল পার্ক এলাকা পুলিশি বলয়ে মুড়ে ফেলা হয়। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর (FIR) দায়ের করা হয়েছে বলে জানা গেছে।