সমুদ্রে একের পর এক হামলা, মৃত ১৪ ভারতীয় নাবিক! সৌদিতেও বিপর্যয়, মোদী সরকারের বড় ঘোষণা

পশ্চিম এশিয়ায় লাগাতার চলতে থাকা বিধ্বংসী সংঘাত ও যুদ্ধের জেরে গত আট মাসে অন্তত ২২ জন ভারতীয় নাগরিকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১৪ জনই সমুদ্রে কর্মরত নাবিক। এছাড়া সৌদি আরবেও প্রাণ হারিয়েছেন ৩ জন ভারতীয় নাগরিক। মঙ্গলবার বিদেশ মন্ত্রকের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে এই উদ্বেগজনক তথ্য সামনে আনলেন মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। গত ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্য ও উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী এবং কর্মরত লক্ষ লক্ষ ভারতীয়ের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতে চরম উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

নিহতদের মধ্যে ১৪ জনই নাবিক, লক্ষ্যবস্তু ওমান উপকূলের জাহাজ: বিদেশ মন্ত্রকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংঘাতের তীব্রতা কেবল স্থলভাগেই সীমাবদ্ধ নেই; সমুদ্রপথে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলের ট্যাঙ্কারগুলিও প্রতিনিয়ত হামলার মুখে পড়ছে। ওমান উপকূল সহ আশেপাশের সমুদ্রসীমায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইতিমধ্যে ১৪ জন ভারতীয় নাবিক প্রাণ হারিয়েছেন।

সমুদ্রের পাশাপাশি সৌদি আরব এবং পার্শ্ববর্তী দেশগুলিতে পরিকাঠামো ও আবাসন ক্ষেত্রে কর্মরত সাধারণ ভারতীয় শ্রমিক ও চাকুরিজীবীরাও এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলার শিকার হচ্ছেন।

পরিস্থিতির ওপর নজর দিল্লির, প্রবাসীদের সঙ্গে যোগাযোগ: বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, পশ্চিম এশিয়ার এই বিপজ্জনক পরিস্থিতি নিয়ে ভারত সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। উপসাগরীয় দেশগুলিতে থাকা ভারতীয়দের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে দিল্লি সবরকম ব্যবস্থা নিচ্ছে। স্থানীয় ভারতীয় দূতাবাসগুলির মাধ্যমে প্রবাসী ভারতীয় সম্প্রদায় এবং বাণিজ্যিক সংস্থাগুলির সঙ্গে ২৪ ঘণ্টা নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে।

সামরিক পদক্ষেপ নয়, আলোচনার পক্ষে সওয়াল ভারতের: সংঘাতের শুরু থেকেই ভারত সামরিক হানাহানির বদলে কূটনৈতিক আলোচনা ও সংলাপে জোর দিয়ে আসছে। বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, হামলা ও পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ কখনও স্থায়ী সমাধান আনতে পারে না; বরং দ্রুত উত্তেজনা প্রশমন করে আলোচনার টেবিলে ফেরাই জরুরি।

তবে পশ্চিম এশিয়ার আকাশ থেকে যুদ্ধের মেঘ কবে কাটবে, তা নিয়ে এখনও ঘোর অনিশ্চয়তা বজায় রয়েছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বিপুল সংখ্যক ভারতীয়ের নিরাপত্তা নিয়ে দিল্লিতে দুশ্চিন্তার পারদ চড়ছে।