সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা! রাষ্ট্রসংঘে পাকিস্তানকে তুলোধনা করলেন এস জয়শঙ্কর

রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ সভার ৮১তম অধিবেশনে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে ভারতের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্টভাবে তুলে ধরে পাকিস্তানকে তীব্র আক্রমণ করলেন কেন্দ্রীয় বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, সন্ত্রাসবাদের অভিশাপের সঙ্গে কখনই সহাবস্থান করা সম্ভব নয়। আত্মরক্ষার জন্য ভারত নিজের সমস্ত অধিকার প্রয়োগ করবে এবং সন্ত্রাসবাদের মদদদাতাদের অবশ্যই কড়া জবাবদিহি করতে হবে।

এদিন রাষ্ট্রসংঘের সাধারণ বিতর্কে বক্তব্য রাখতে গিয়ে নাম না করে পাকিস্তান ও প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফকে নিশানা করেন জয়শঙ্কর। তিনি বলেন, “সন্ত্রাসবাদকে নিয়মিত অভ্যাস বানিয়ে নেওয়া একটি দেশ এই বিশ্বমঞ্চে তথ্য বিকৃত করেছে। সন্ত্রাসবাদকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা এবং এর পরিণতি থেকে বাঁচতে নানা যুক্তি খাড়া করা হচ্ছে, যা কখনই বরদাস্ত করা হবে না।” এর আগের দিন শেহবাজ শরিফ কাশ্মীর ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে নানা মন্তব্য করার পাশাপাশি মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রসঙ্গ টেনেছিলেন। তার তীব্র জবাব দিয়ে জয়শঙ্কর বলেন, বন্ধুত্বের বার্তা বা সদিচ্ছা কখনও সন্ত্রাসবাদের সঙ্গে হাত মেলাতে পারে না।

আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ভারতের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেন, যে কোনও রাষ্ট্র বা শক্তির পৃষ্ঠপোষকতায় চলা এই ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্বব্যবস্থার প্রতি সরাসরি অবমাননা। বিশেষ করে আর্থিক দিকগুলি কঠোরভাবে দমন করে সন্ত্রাসবাদের জাল ছিঁড়তে হবে। তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, ভারত নিজের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

পাশাপাশি, বিশ্বমঞ্চে গ্লোবাল সাউথ এবং মানবকল্যাণে ভারতের অবিচল ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন বিদেশমন্ত্রী। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী কিংবা অর্থনৈতিক সংকটে বিশ্বের প্রথম সাড়া দানকারী দেশ হিসেবে ভারত কীভাবে নেপাল থেকে শুরু করে ভেনিজুয়েলার পাশে দাঁড়িয়েছে, তার বিশদ বিবরণ দেন তিনি। খাদ্য, ওষুধ, শক্তি, সার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির আদানপ্রদানের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশগুলির পাশে থাকার বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “মহাত্মা গান্ধীর বাণীর মতো—শান্তির কোনো নির্দিষ্ট পথ নেই, শান্তিই একমাত্র পথ।” বহুপাক্ষিকতার ওপর জোর দিয়ে তিনি বিশ্বকে আরও বেশি সমতা ও সহযোগিতার পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।