শিয়ালদা স্টেশনে তুলকালাম! ভাইরাল ‘রাজু দা-র পকেট পরোটা’র স্টলে হানা দিল পুরসভা, মিলল কী?

উৎসবের মরশুম মিটতেই খাদ্য রসিকদের সুরক্ষায় ফের কোমর বেঁধে মাঠে নামল কলকাতা পুরসভা। শহরের আনাচে-কানাচে খাবারের দোকানে মান বজায় থাকছে কি না, তা যাচাই করতে খাদ্য সুরক্ষা দফতরের অভিযান এখন তুঙ্গে। শনিবার সকালে আচমকাই শিয়ালদা স্টেশন চত্বরে হানা দেয় পুরসভার একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল। একের পর এক জনপ্রিয় খাবারের স্টল পরিদর্শন করেন আধিকারিকরা।
সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জনপ্রিয় শিয়ালদার ‘রাজু দা-র পকেট পরোটা’। ফুড ব্লগারদের রিভিউ দেখে প্রতিদিন এই দোকানে খাদ্যরসিকদের উপচে পড়া ভিড় জমে। এদিন পুরসভার খাদ্য সুরক্ষা দফতরের টিমের নজর পড়ে রাজু ঘোষের এই স্টলেই। তবে পুরসভার কড়া পরীক্ষায় কি পাশ করতে পারলেন রাজু দা? উত্তর হলো, হ্যাঁ!
আধিকারিকরা প্রাথমিক তদন্তে রাজু দা-র দোকানের পরোটা, অন্যান্য খাবার কিংবা মশলাপাতিতে আপত্তিকর বা ক্ষতিকারক কিছুই পাননি। খাবারের গুণগত মান নিয়েও তাঁরা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে কয়েকটি বিষয়ে কড়া সতর্কবার্তা ও পরামর্শ দিয়েছেন আধিকারিকরা। খাবার পরিবেশন ও বিক্রির সময় বিক্রেতাকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক ও গ্লাভস পরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি দূর থেকে পরোটা আনানেওয়ার ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয় এবং রাজু বাবুকে দ্রুত তাঁর বাড়ির ঠিকানায় একটি স্থায়ী ফুড লাইসেন্স করিয়ে নিতে বলা হয়েছে।
রাজু দা রক্ষা পেলেও শিয়ালদার অন্যান্য অনেক দোকানই কিন্তু ছাড় পায়নি। অভিযান চলাকালীন স্টেশনের একটি ভাজাভুজির দোকানে গিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য পান আধিকারিকরা। দেখা যায়, সেখানে সিঙাড়া ও তরকারিতে অত্যন্ত নিম্নমানের ও ক্ষতিকর হলুদ ব্যবহার করা হচ্ছে। বিষাক্ত সেই খাবার ও মশলা সঙ্গে সঙ্গে ডাস্টবিনে ফেলে নষ্ট করে দেয় পুরসভার টিম।
এরপর আধিকারিকদের গন্তব্য ছিল ‘বাবুর দোকান’ নামে আরেকটি পরিচিত খাবার স্টল। সেখানে গিয়ে চক্ষু চড়কগাছ প্রতিনিধিদের! দোকানে দীর্ঘদিন ধরে মজুত করে রাখা পচা মাছ ও মাংস উদ্ধার হয়। যে মশলা দিয়ে রান্না চলছিল, সেগুলোর গুণগত মানও ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের। ক্রেতাদের স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে সেই সমস্ত পচা মাছ, মাংস এবং ভেজাল মশলা অবিলম্বে বাজেয়াপ্ত করে ফেলে দেওয়া হয়। পুরসভার এই ঝটিকা অভিযানে শিয়ালদা স্টেশন চত্বরের অসাধু ব্যবসায়ী মহলে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।