শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় উত্তাল কলকাতা হাইকোর্ট! ৩২,০০০ শিক্ষকের ভাগ্যে কী আছে?

৩২ হাজার প্রাথমিক শিক্ষকের চাকরি বাতিলের মামলার শুনানি আজ কলকাতা হাইকোর্টে শুরু হয়েছে। বিচারপতি তপব্রত চক্রবর্তী এবং বিচারপতি ঋতব্রত কুমার মিত্রের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার রায়, পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য এক নতুন দিকনির্দেশনা দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

২০১৬ সালে পশ্চিমবঙ্গ প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ প্রায় ৩২ হাজার অপ্রশিক্ষিত শিক্ষক নিয়োগ করে। যদিও তাঁরা ২০১৭ সালের টেট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন, কিন্তু তাদের প্রশিক্ষণ ছিল না। এই নিয়োগ নিয়ে প্রিয়াঙ্কা নস্কর নামে এক চাকরিপ্রার্থী মামলা দায়ের করেন। এরপর ২০২৩ সালে বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়ের একক বেঞ্চ ওই ৩২ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের নির্দেশ দেন। সেই রায়ের বিরুদ্ধে ডিভিশন বেঞ্চে আপিল করা হয় এবং আজ তারই শুনানি চলছে।

আজকের শুনানিতে চাকরি হারানো শিক্ষকদের আইনজীবীরা নিজেদের যুক্তি উপস্থাপন করেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণ করার জন্য তাঁদেরকে অকাট্য তথ্য-প্রমাণ দাখিল করতে হবে। বিচারকরা জানতে চেয়েছেন, চাকরি কেনা-বেচার সঙ্গে কোনো ব্যক্তি জড়িত আছেন কিনা, তার প্রমাণ তাঁদের কাছে আছে কি না।

আইনজীবীদের যুক্তি-তর্ক পর্ব প্রায় শেষের দিকে। এরপর চাকরি হারানো শিক্ষক এবং পর্ষদের পক্ষ থেকে প্রত্যুত্তর দেওয়া হবে। তবে সামনেই পুজোর ছুটি থাকায় এই মামলার চূড়ান্ত রায় পেতে আরও এক থেকে দুই মাস সময় লাগতে পারে।

যদি রায় চাকরিপ্রার্থীদের বিপক্ষে যায়, তাহলে পুজোর আগে হাজার হাজার শিক্ষক পরিবারের জন্য এক বড় সংকট তৈরি হতে পারে। একইসঙ্গে, এত সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি গেলে রাজ্যের শিশুদের পড়াশোনার ওপরও এর প্রভাব পড়বে বলে অনেকেই আশঙ্কা করছেন। এই মামলার রায় দুর্নীতি বন্ধে একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।