“শরীর থেকে আত্মা কেড়ে নেওয়ার সমান!” এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুইয়াঁর কড়া তোপ

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেই এবার অত্যন্ত বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি উজ্জ্বল ভুইয়াঁ। হায়দ্রাবাদের নলসার ইউনিভার্সিটি অফ ল-তে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানান, যে কোনও প্রক্রিয়ার জেরে লক্ষ লক্ষ নাগরিক ভোটাধিকার হারালে এবং নিজ দেশেই দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকে পরিণত হলে তা কখনই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। এই ধরনের পদক্ষেপকে সরাসরি সংবিধানের মূল কাঠামোর ওপর আঘাত এবং সমতা ও সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের লঙ্ঘন বলে তোপ দাগেন তিনি।

রবিবার হায়দ্রাবাদের ওই অনুষ্ঠানে বিচারপতি ভুইয়াঁ বলেন, “ভারতীয় সংবিধানে নাগরিকদের দু’টি শ্রেণির কোনও উল্লেখ নেই—একদল ভোটাধিকার পাবে আর একদল পাবে না, এমনটা হতে পারে না। কোনও সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষ বা আদালতই এমন স্বেচ্ছাচারী প্রক্রিয়াকে সমর্থন করতে পারে না।” ভোটাধিকার হারানোর বিষয়টিকে তীব্রভাবে খন্ডন করে তিনি মন্তব্য করেন, একজন ভারতীয় নাগরিকের সত্তা থেকে ভোটাধিকার বিচ্ছিন্ন করা মানে তার শরীর থেকে আত্মা কেড়ে নেওয়ার সমান। এর সঙ্গে দেশের দীর্ঘ স্বাধীনতার সংগ্রামের ইতিহাস ওতপ্রোতভাবে জড়িত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের মে মাসে সুপ্রিম কোর্ট সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচন কমিশনের এসআইআর প্রক্রিয়াকে বহাল রেখেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে এই প্রক্রিয়ার জেরে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া এবং বিরোধী দলগুলির আপত্তি প্রসঙ্গে বিচারপতির এই সুচিন্তিত মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। তিনি সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ (সমতার অধিকার) এবং ৩২৬ নম্বর অনুচ্ছেদের (সর্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার) প্রসঙ্গ তুলে জানান, মৃত ভোটারের ক্ষেত্র বাদে নোটিশ ও শুনানির সুযোগ না দিয়ে হঠাৎ করে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া বেআইনি।

দেশের স্বাধীনতা রক্ষায় প্রতিটি প্রজন্মকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়ে তিনি নানি পালকিওয়ালার একটি বাণীর স্মরণ করিয়ে দেন। পাশাপাশি মার্কিন বিচারপতির উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, গণতন্ত্রে সর্বোচ্চ পদটি রাষ্ট্রপতির নয়, বরং সাধারণ নাগরিকের। ভোটদানকে সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে বিচারপতি ভুইয়াঁ জোর দিয়ে বলেন যে, কোটিপতি থেকে রিকশাচালক—সকলের ভোটই সমান মর্যাদার অধিকারী এবং এটি খোদ সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর কেন্দ্রে অবস্থিত।