‘লুকিয়ে জড়িয়ে ধরা-চুমু খাওয়া’, কাঞ্চনের সঙ্গে পুজোর স্মৃতির কথা ফাঁস শ্রীময়ীর

পুজোর ঠিক আগে আগেই দ্বিতীয় সন্তানের আগমনে এখন খুশির হাওয়া অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক ও শ্রীময়ী চট্টোপাধ্যায়ের সংসারে। কৃষভির পর নতুন সদস্যের সংযোজন ঘটায় এ বছরের পুজোটা এই তারকা দম্পতির কাছে অত্যন্ত স্পেশ্যাল। হাজারো ট্রোল ও কটাক্ষকে বুড়ো আঙুল দিয়ে প্রতিদিন নতুন করে বাঁচার রসদ খুঁজে নেওয়া এই জুটি বয়স বা অসম প্রেমের ব্যবধানকে পিছনে ফেলে জমিয়ে উপভোগ করতে প্রস্তুত দুর্গোৎসব। দুই সন্তান ও পরিবারের সকলকে নিয়ে তাঁদের পুজোর বিশেষ পরিকল্পনা শেয়ার করেছেন খোদ শ্রীময়ী।

কেমন হবে এ বছরের পুজো পরিকল্পনা?
শ্রীময়ী প্যান্ডেল হপিং করতে ভীষণ ভালোবাসেন। গত বছরও ছোট ছেলে কৃষভিকে সঙ্গে নিয়েই সারারাত ঠাকুর দেখেছিলেন তিনি। তবে এ বছর সেই নিয়মে কিছুটা বদল আসছে। অভিনেত্রীর কথায়, ‘বাড়িতে কৃষভ আছে, ওকে তো এখনই বাইরে বের করতে পারব না, সবে মাত্র ২ মাস বয়স ওর। তবে পুজোতে বন্ধু-বান্ধবদের বাড়ি যাব, জমিয়ে আড্ডা দেব এবং পাড়ার পুজো দেখব। এছাড়া এবছর বেশ কয়েকটি নতুন সিনেমা মুক্তি পেয়েছে, যার দুটিতে কাঞ্চন রয়েছে—সেগুলো প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে দেখার প্ল্যান রয়েছে। এভাবেই কাটবে আমাদের পুজো।’ ছোটদের পাশাপাশি নতুন অতিথির জন্যও প্রচুর জামাকাপড় কেনা হয়েছে। তবে প্রতিবারের মতো এবারও অষ্টমীর অঞ্জলি দেওয়া এবং ভোগ খাওয়া তাঁদের তালিকার শীর্ষে রয়েছে।

খাওয়াদাওয়া ও রান্নার ছুটির গল্প
কাঞ্চন ও শ্রীময়ী দুজনেই রসনাবিলাসী। পুজোর খাওয়াদাওয়া প্রসঙ্গে শ্রীময়ী জানান, ঠাকুর দেখতে বেরোলে বড় কোনো রেস্তোরাঁ নয়, বরং রাস্তার ধারের লাল কাপড়ে ঢাকা বিরিয়ানি তাঁর চাই-ই চাই। সেই সঙ্গে ফুচকা তো থাকতেই হবে। আর মহাভারত বা নবমীর দিনে পাঁঠার মাংস আর পোলাও মাস্ট। এছাড়া বেশ কিছু জায়গা থেকে নেমন্তন্নও পেয়েছেন তাঁরা। বিশেষ ব্যাপার হলো, পুজোর ক’টা দিন শ্রীময়ীর রান্নাঘরে ঢোকা একেবারে বারণ। অন্য সময়ে রান্নার লোক থাকা সত্ত্বেও তাঁকে অনেক পদ রান্না করতে হলেও, পঞ্চমী থেকে পুরোপুরি ছুটি তাঁর। মজার ছলে অভিনেত্রী এও জানান যে, এবছর কাঞ্চনের ডেবিট কার্ড নিয়ে তিনি চুটিয়ে শাড়ির শপিং করেছেন!

পুরোনো দিনের প্রেম ও স্মৃতির রোমন্থন
কাঞ্চনের সঙ্গে প্রথম প্রেমের স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে শ্রীময়ী বলেন, ‘তখন আমার প্রেমের মতো বয়সই ছিল না, অনেক ছোট ছিলাম আর কাঞ্চনও তখন বিবাহিত। তবে পুজোর দিনগুলোর জন্য সারা বছর মুখিয়ে থাকতাম। ইন্ডাস্ট্রির অনেক বড় বড় তারকারা আমাদের এক কমন ফ্রেন্ডের আড্ডায় আসতেন। খাওয়া-দাওয়ার পর কাঞ্চন আমাকে বাড়ি পৌঁছে দিতে আসত, ওটাই ছিল সবচেয়ে বিশেষ।’

অতীতের স্মৃতি হাতড়ে শ্রীময়ী আরও ফাঁস করেন যে, ১৬ বছর বয়সে মহিষাদলে ২১ দিনের এক ছবির আউটডোরে যাওয়ার পরই তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। তখন থেকেই পুজোর দিনে লুকিয়ে দেখা করা, ভালোবাসা বিনিময় চলত। তাদের সেই প্রেম ছিল আন্ডার দ্য টেবিল। তবে বিয়ের পর সেই লুকোচুরি শেষ হলেও, দশমীর সিঁদুর খেলার আনন্দটা আজও তাঁদের কাছে একইভাবে স্পেশ্যাল। সমস্ত ব্যস্ততা ও দায়িত্বকে দূরে সরিয়ে আগের মতো আনন্দেই কাটছে কাঞ্চন-শ্রীময়ীর উৎসবের দিনগুলো।