“আমাকে ধরছেন কেন? কী আইন ভেঙেছি?”-গ্রেপ্তার অভিজিৎ দীপকে ও নেহা বোরা

পুলিশের কড়া নোটিস ও সতর্কতা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়ে নিজের দাবিতে অনড় থাকলেন ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। পূর্বঘোষিত ‘তেরঙ্গা’ কর্মসূচির উদ্দেশ্যে শুক্রবার ঘর থেকে বেরোতেই তাঁকে আটক করল দিল্লি পুলিশ। একই সঙ্গে মান্ডি হাউসের কাছ থেকে আইসা (AISA) নেত্রী নেহা বোরাকেও প্রতিবাদ কর্মসূচির নেতৃত্ব দেওয়ার সময় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ঘটনায় রাজধানীর রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।

পুলিশের নোটিস ও ধস্তাধস্তি: ঘটনার সূত্রপাত হয় ঠিক তার ঘণ্টাখানেক আগে। পুলিশ সূত্রে খবর, করোল বাগের একটি বাড়িতে গিয়ে সিজেপি প্রধান দীপকেকে কর্মসূচি বাতিলের আনুষ্ঠানিক নোটিস ধরিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। নোটিসে অভিযোগ করা হয়েছিল যে, সোশ্যাল মিডিয়ায় হিংসায় উসকানি দিচ্ছেন ওই নেতা, তাই যেন অবিলম্বে এই কর্মসূচি বাতিল করা হয়।

তবে পুলিশের সেই নির্দেশ পাত্তাই দেননি তরুণ এই নেতা। প্রশাসনের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল, কনট প্লেস ও তার সংলগ্ন সেন্ট্রাল পার্ক কোনো বিক্ষোভ দেখানোর জায়গা নয় এবং সেখানে ভারতীয় নাগরিক সুরক্ষা সংহিতার ১৬৩ ধারা (সাবেক ১৪৪ ধারা) অনুযায়ী কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি রয়েছে। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই নির্দিষ্ট সময়ে তেরঙা হাতে বাড়ির বাইরে পা রাখেন ৩১ বছর বয়সি অভিজিৎ দীপকে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি বাড়ি থেকে বের হওয়ামাত্রই আগে থেকে ওত পেতে থাকা বিশাল পুলিশ বাহিনী তাঁকে ঘিরে ধরে। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, পুলিশ অফিসারদের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও তর্কে জড়িয়ে পড়েন সিজেপি প্রধান। তিনি চিৎকার করে বলতে থাকেন, “আমাকে ধরছেন কেন? আমি তো একা আছি! কী আইন ভেঙেছি আমি?”

তবে তাঁর কোনো কথাতেই কান না দিয়ে পুলিশকর্মীরা তাঁকে জোর করে একটি গাড়িতে তুলে নেন। গাড়িটি রওনা দেওয়ার সময় ক্ষুব্ধ সিজেপি সমর্থকরা রাস্তায় শুয়ে পড়ে পথ আটকানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ জোরাজুরি করে সেই অবরোধ সরিয়ে গাড়িটি বের করে নিয়ে যায়। অন্যদিকে, মান্ডি হাউস থেকেও প্রতিবাদী নেত্রী নেহা বোরাকে আটক করা হয়েছে। তবে এই মুহূর্তে ধৃত দুই নেতা-নেত্রীকে পুলিশ ঠিক কোথায় আটকে রেখেছে, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করে কিছু জানানো হয়নি।