লালে লাল দালাল স্ট্রিট! হু হু করে কমছে সূচক, সোমবার সকালেই কোটি কোটি টাকা হাওয়া

সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবসেই চরম ধাক্কা খেল ভারতীয় শেয়ারবাজার। গত সপ্তাহের নিম্নমুখী বা নেগেটিভ ট্রেন্ড বজায় রেখে আজ সোমবার সকাল থেকেই হু হু করে পড়তে শুরু করে সূচক। অপরিশোধিত তেলের চড়া দাম, মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা এবং তথ্যপ্রযুক্তি (IT) সহ একাধিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের শেয়ার বিক্রির জেরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। পাশাপাশি, চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকেও এখন তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে বাজারের।
সোমবার সকালে রক্তক্ষয়ী সূচক
আজ সপ্তাহের প্রথম দিন বাজার খুলতেই বড়সড় ধস নামে সেনসেক্সে।
সেনসেক্স: সকাল ৯টা ২৪ মিনিটে বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের (BSE) প্রধান সূচক সেনসেক্স ৫৩৮.৮৯ পয়েন্ট বা ০.৭৪ শতাংশ কমে ৭২,৫৮৪.৯৪ পয়েন্টে নেমে আসে। দিনের শুরুতে সূচকটি ৭২,৯৯০.০৪ পয়েন্টে শুরু হলেও পরে তা আরও নেমে ৭২,৫৪৯.৭৬ পয়েন্টের দিনের সর্বনিম্নে গিয়ে ঠেকে।
নিফটি ৫০: অন্যদিকে, ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের (NSE) নিফটি ৫০ সূচক ২১১.৮০ পয়েন্ট বা ০.৯৪ শতাংশ কমে নেমে আসে ২২,৩৮৮.২০ পয়েন্টে। শুরুতে ২২,৫২৪.৪০ পয়েন্টে লেনদেন শুরু হলেও তা একসময় ২২,৩৮৭.৪৫ পয়েন্টে নেমে যায়।
কেন এই পতন? কী বলছে বাজার বিশেষজ্ঞরা?
১. আইটি সেক্টরের করুণ দশা: আজকের এই পতনের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা নিয়েছে তথ্যপ্রযুক্তি বা আইটি সংস্থার শেয়ারগুলি। নিফটি আইটি সূচক ১.১৬ শতাংশ কমেছে। এর মধ্যে ইনফোসিসের শেয়ারদর ১.৯৫ শতাংশ পড়েছে। এছাড়া এইচসিএল টেকনোলজিসের শেয়ার ১.১৪ শতাংশ, টেক মাহিন্দ্রার শেয়ার ০.৮৮ শতাংশ এবং টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেসের (টিসিএস) শেয়ার ০.৫৪ শতাংশ নিম্নমুখী হয়েছে। বিশেষ করে ইনফোসিসের বার্ষিক আয় কমার ইঙ্গিতে এই সেক্টরে বিনিয়োগকারীদের চাপ আরও বেড়েছে।
২. সর্বত্র বিক্রির হিড়িক: কেবল আইটি নয়, বাজারের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই আজ ব্যাপক সেলিং বা বিক্রির চাপ দেখা গেছে। নিফটি অটো ১.৪১ শতাংশ, নিফটি এফএমসিজি ১.৪৮ শতাংশ এবং নিফটি পিএসইউ ব্যাঙ্ক ১.৫৯ শতাংশ কমেছে। পাশাপাশি নিফটি রিয়েলটি (১.২৬%) এবং নিফটি ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস (১.১১%) সূচকেও বড় পতন হয়েছে।
৩. অপরিশোধিত তেলের দাম ও মার্কিন নীতি: অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমলেও তা এখনও উচ্চস্তরে রয়েছে। সোমবার ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার্স ২.০৭ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১১৪.৩০ ডলারে এবং মার্কিন ডব্লিউটিআই ক্রুড ২.২৫ শতাংশ কমে ১০০.৯৫ ডলারে দাঁড়ালেও মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা কাটেনি। এর জেরে বিভিন্ন কোম্পানির মুনাফার উপর বড় চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এছাড়া চলতি সপ্তাহে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার ঘোষণার আগে লগ্নিকারীরা চরম সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: এই নিবন্ধটি শুধুমাত্র তথ্যের জন্য পরিবেশিত। শেয়ারবাজারে বিনিয়োগ বা ট্রেড করার আগে নিজ দায়িত্বে গবেষণা করুন অথবা বাজার বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। আপনার আর্থিক ঝুঁকির দায়িত্ব সম্পূর্ণ আপনার নিজের।