রেডিও কাকা’র হাতের জাদুতে ফেরে প্রাণের স্পন্দন! মহালয়ার আগে ভাইরাল কাটোয়ার সুরাত আলি

মহালয়া মানেই বাঙালির কাছে এক বিশেষ আবেগ, যার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে ভোরবেলায় রেডিওতে চণ্ডীপাঠ শোনার চিরায়ত প্রথা। আর এই আবেগকেই গত চার দশক ধরে বাঁচিয়ে রেখেছেন কাটোয়ার সুরাত আলি শেখ, যিনি সবার কাছে ‘রেডিও কাকা’ নামেই পরিচিত। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া শহরে প্রায় ৬০ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ‘কাটোয়া রেডিও’ নামের ছোট্ট দোকানে আজও তাঁর দক্ষ হাতের জাদুতে প্রাণ ফিরে পায় পুরনো দিনের রেডিও।

এক সময়ের সেই ব্যস্ততা
এক সময় মহালয়ার মাসখানেক আগে থেকেই সুরাত আলির দোকানে ভিড় উপচে পড়ত। গ্রাহকরা নিয়ে আসতেন তাদের প্রিয় রেডিওটি, যাতে মহালয়ার সকালে প্রতিটি বাড়িতে নির্ঝঞ্ঝাটে বেজে ওঠে দেবীপক্ষের আগমনী সুর। সুরাত আলি জানান, “আগে মহালয়ার একমাস আগে থেকে কাজ নেওয়া বন্ধ করে দিতাম। রাতে ঠিকভাবে ঘুম হতো না, কাজের চাপ ভালোই থাকতো। এখন সেই চাপটা আর নেই, তবে নতুন করে রেডিওর চাহিদা কিন্তু আবার বাড়ছে।”

মোবাইলের যুগেও চাহিদা অক্ষুণ্ণ
সময় বদলেছে, মোবাইল ফোন আর ইন্টারনেটের দাপটে রেডিওর জনপ্রিয়তা এখন অনেকটাই কমেছে। তবুও মহালয়ার আগে সেই পুরনো আবেগ যেন আবার নতুন করে জেগে ওঠে। বহু দিন ধরে এক কোণে পড়ে থাকা রেডিওগুলো মহালয়ার সময় হঠাৎই নতুন করে সচল হয়ে ওঠে সুরাত আলির হাতে। পুরোনো ট্রানজিস্টর থেকে শুরু করে আধুনিক রেডিও, সবই সমান দক্ষতায় সারিয়ে তোলেন তিনি। দোকানের বর্তমান কর্ণধার পার্থ মণ্ডল বলেন, “উনি এককথায় রেডিওর পোকা। কাটোয়াতে সবাই তাকে রেডিও কাকা নামেই চেনে।”

এক টুকরো ইতিহাস, এক টুকরো আবেগ
বয়সের ভার বাড়লেও পেশার প্রতি নিষ্ঠা এতটুকুও কমেনি সুরাত আলির। আজও দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ শুধু তাঁর হাতের জাদুতে রেডিও সারাতে আসেন। কাটোয়ার সেই ছোট্ট দোকানে বসে তিনি প্রতিদিন বাঁচিয়ে রাখেন বাঙালির এক টুকরো ইতিহাস, এক টুকরো আবেগ। মহালয়ার আগমনী হাওয়ায় তাঁর দোকানে এক অন্যরকম প্রাণের সঞ্চার হয়। তিনি তখন শুধুই একজন মিস্ত্রি নন, হয়ে ওঠেন বাঙালির স্মৃতিরক্ষক, যিনি ধরে রেখেছেন রেডিওয় মহালয়া শোনার সেই অনন্য অনুভূতি।