“রাবণকে বধ করেও রাম পাঠিয়েছিলেন লক্ষ্মণকে!”- মৃত্যুর আগে লঙ্কেশ্বরের ৩ বাণী, যা আজও জীবন বদলে দেয়

আগামী ২ অক্টোবর সারা দেশে পালিত হবে দসেরা বা বিজয়া দশমী। এই দিনে অশুভ শক্তির বিনাশ ঘটিয়ে শুভ শক্তির জয় হয়েছিল— ভগবান রাম বধ করেছিলেন রাবণকে। তবে রাবণকে কেবল একজন রাক্ষস রাজা হিসেবে দেখা হয় না, বরং বেদ শাস্ত্রে তাঁকে মহাজ্ঞানী এবং বিদ্যান পুরুষ হিসেবেও সম্মান করা হয়। এই কারণেই রাবণের মৃত্যুর আগে রাম তাঁর ভাই লক্ষ্মণকে জীবনের অমূল্য পাঠ শেখার জন্য রাবণের কাছে পাঠিয়েছিলেন।
রামায়ণে এই ঘটনাটি উল্লেখ করা হয়েছে। রাবণ যখন মৃত্যুশয্যায় ছিলেন, তখন রাম তাঁর ভাই লক্ষ্মণকে বলেছিলেন, “জগৎ-সংসারে রাবণের মতো বিদ্যান ব্যক্তি আর দু’জন নেই। রাবণের কাছে রয়েছে নীতি, শক্তি এবং জ্ঞানের অপার ভাণ্ডার।” তাই লক্ষ্মণকে জীবনের পাঠ নিতে রাবণের কাছে যাওয়ার আদেশ দেন রাম। লক্ষ্মণ সেই আদেশ পালন করে রাবণের কাছে গিয়ে বসেন। সেই সময়েই মৃত্যুশয্যা থেকে রাবণ লক্ষ্মণকে জীবনের ৩টি অমূল্য বাণী শুনিয়েছিলেন, যা আজও প্রত্যেক মানুষের জন্য অনুপ্রেরণামূলক হতে পারে।
১. শুভ কাজ দ্রুত সম্পন্ন করুন, খারাপ কাজ পিছিয়ে দিন
রাবণ লক্ষ্মণকে বলেছিলেন, “যখন জীবনে কোনো ভালো কাজ করার সুযোগ আসে, তখন দ্রুত তা সম্পন্ন করে ফেলবে। ভালো কাজ কখনও এড়িয়ে চলা বা পিছিয়ে দেওয়া উচিত নয়।” কারণ কখন জীবন থেমে যায়, তা বলা যায় না। তাই পুণ্য এবং লাভজনক কাজ দ্রুত করে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এর পাশাপাশি, খারাপ কাজ এবং অন্যায় সর্বদা যত এড়িয়ে যাওয়া যায় বা পিছিয়ে দেওয়া যায়, ততই মঙ্গল।
২. শত্রুকে কখনও দুর্বল ভাববেন না
রাবণ তাঁর নিজের জীবনের ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে লক্ষ্মণকে বলেছিলেন, জীবনে শত্রু বা অসুখ যত কম বা ছোটই হোক না কেন, কখনও তাকে দুর্বল ভাবা উচিত নয়। একটি ছোট দেশলাইও বড় অগ্নিকাণ্ড ঘটাতে পারে। রাবণ নিজেও ভগবান রাম, লক্ষ্মণ এবং বানর সেনাকে দুর্বল ভেবে ফেলেছিলেন। এটাই তাঁর সবচেয়ে বড় ভুল প্রমাণিত হয়েছিল এবং তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল এই চরম অবহেলা।
৩. নিজের গভীর রহস্য গোপন রাখুন
জীবনের সঙ্গে জড়িত গভীর রহস্য, পরামর্শ বা দুর্বলতা সর্বদা গোপন রাখা উচিত। লক্ষ্মণকে এই তৃতীয় শিক্ষাটিই দিয়েছিলেন রাবণ। তিনি বলেছিলেন, বাইরের লোকে যতই অপমান করুক না কেন, প্রত্যেক বিষয়ে গলা ফাটিয়ে চিৎকার করা উচিত নয়। নিজের গোপন রহস্য শত্রুর সামনে একবার ফাঁস হয়ে গেলে রাবণের মতো পরিণতি হতে বাধ্য। কারণ রাবণের মৃত্যুর রহস্য তাঁরই ভাই বিভীষণ ফাঁস করে দিয়েছিলেন।