রাত ঠিক ২:৫৫ মিনিটে মহাকাশে ইতিহাস! ইসরোর ‘নটি বয়’ রকেটের ফায়ারিংয়ে কাঁপবে শ্রীহরিকোটা!

আজ রাত ঠিক ২টো ৫৫ মিনিটে যখন গোটা দেশ গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকবে, ঠিক সেই মুহূর্তেই অন্ধকারের বুক চিরে অন্ধপ্রদেশের শ্রীহরিকোটার দ্বিতীয় লঞ্চ প্যাড থেকে তৈরি হতে চলেছে মহাকাশ গবেষণার এক নতুন ইতিহাস। মহাকাশের উদ্দেশে সফলভাবে রওনা দেবে ভারতের শক্তিশালী ভূ-সমলয় উপগ্রহ উৎক্ষেপণ যান বা ‘জিএসএলভি-এফ১৭’। এই বিশেষ রকেটটি সঙ্গে করে নিয়ে যাচ্ছে প্রায় ৩৬ হাজার কিলোমিটার উচ্চতায় মহাশূন্যে অবস্থান করতে চলা ভারতের প্রথম অত্যাধুনিক ইমেজিং স্যাটেলাইট ‘ইওএস-০৫’। বিগত বেশ কয়েকটি মিশনে পরপর অপ্রত্যাশিত ব্যর্থতার মুখোমুখি হওয়ার পর ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা তথা ইসরোর কাছে এই উৎক্ষেপণ স্রেফ একটি রকেট ওড়ার ঘটনা নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাস, সম্মান এবং প্রযুক্তিগত মর্যাদা পুনরুদ্ধারের এক কঠিন অগ্নিপরীক্ষা।
সাম্প্রতিক সময়ে ইসরোর সময়গুলো খুব একটা অনুকূলে কাটেনি। মহাকাশ সংস্থার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ওয়ার্কহর্স রকেট হিসেবে পরিচিত পিএসএলভি বিগত বছরগুলোতে পর পর কয়েকটি মহাকাশ অভিযানে চরম ব্যর্থতার মুখে পড়ে। এই পরিস্থিতিতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে সেটিকে আপাতত গ্রাউন্ডেড রেখে শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায় তদন্ত। এমন এক চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে জিএসএলভি-র এই নতুন যাত্রা ইসরোর অভ্যন্তরীণ আত্মবিশ্বাস ফেরানোর অন্যতম মোক্ষম হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। যদিও প্রযুক্তিগত দিক থেকে পিএসএলভি এবং জিএসএলভি সম্পূর্ণ আলাদা গোত্রের রকেট। এদের ইঞ্জিন গঠন বা চালিকাশক্তির প্রক্রিয়ায় কোনো সরাসরি সংযোগ না থাকায় পিএসএলভির ব্যর্থতার কালো ছায়া জিএসএলভির ওপর পড়বে না—এই আশাবাদ নিয়েই এখন দিন গুনছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা।
তবে জিএসএলভি রকেটকে ঘিরে সংশয় ও উৎকণ্ঠা আজকের নয়। ইসরোর অন্দরে এই রকেটের একটি বেশ পরিচিত ও মজার ডাকনাম রয়েছে—‘নটি বয়’ বা একগুঁয়ে ছেলে! প্রাথমিক উন্নয়নমূলক দিনগুলোতে রকেটের চরম অনিশ্চিত ও খামখেয়ালি আচরণের জন্যই এমন নাম দেওয়া হয়েছিল। বিগত ১৮টি মিশনের মধ্যে অন্তত ৬টিতেই আশানুরূপ সাফল্য আসেনি। ফলে পিএসএলভির মতো নির্ভুল সাফল্য এখানে মিলত না, বরং জিএসএলভির প্রতিটি উৎক্ষেপণ মানেই বিজ্ঞানীদের বুক ধুকপুকানি। তা সত্ত্বেও এই ‘নটি বয়’ ভারতীয় মহাকাশ বিজ্ঞানের মুকুটে এক পরম রত্ন। এর মূল কারণ রকেটের প্রাণকেন্দ্রে থাকা সম্পূর্ণ দেশীয় ক্রায়োজেনিক ইঞ্জিন, যা রকেট বিজ্ঞানের অন্যতম জটিল প্রযুক্তি। নব্বইয়ের দশকে রাশিয়া থেকে এই প্রযুক্তি হস্তান্তরের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নানা বাধা সৃষ্টি করলেও ভারত হার মানেনি। আজ রাতের এই উৎক্ষেপণ তাই স্রেফ একটি স্যাটেলাইট বসানোর লড়াই নয়, এটি ভারতের প্রযুক্তিগত স্বাবলম্বিতা ও অদম্য লড়াইয়ের এক বিরাট প্রতীক।