‘আমি কি সত্যিই সিআইএ-র চর?’ বিদেশি যোগসাজশের বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে অবশেষে যা বললেন সোনম ওয়াংচুক!

বিখ্যাত সমাজকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সিআইএ (CIA) কিংবা অন্য কোনো বিদেশি শক্তির সঙ্গে গোপন যোগসাজশের সমস্ত গুরুতর অভিযোগ সরাসরি হেসেই উড়িয়ে দিয়েছেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) বা সিজেপি-র আন্দোলনকে তাঁর সমর্থন জানানো এবং তার পিছনে বিদেশি আর্থিক মদদ থাকার যে জল্পনা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে অবশেষে মুখ খুলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারের সময় ওয়াংচুককে সরাসরি প্রশ্ন করা হয় যে, তাঁর কাজের সূক্ষ্ম ও কৌশলগত ধাঁচ দেখে অনেকেরই সন্দেহ হয় তিনি আমেরিকার কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘সিআইএ’-র কোনো গোপন সদস্য কি না? এই প্রশ্নের জবাবে অত্যন্ত হালকা মেজাজে হেসে সোনম ওয়াংচুক বলেন, “আমি যদি সিআইএ হই, তবে তা এখনও আমার নিজেরই অজানা! হয়তো ওদের কর্মী নিয়োগের পদ্ধতি এতটাই গোপন ও জটিল যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি মারা যাওয়ার ৫০০ বছর পর পর্যন্ত জানতে পারেন না।”
চলতি বছরের জুন মাস থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে সিজেপি-র যে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তার জেরে পরীক্ষার নানা অনিয়মের অভিযোগ মাথায় নিয়ে জুলাই মাসে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে পদত্যাগ করতে হয়েছিল। সেই আলোড়ন সৃষ্টিকারী আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন সোনম ওয়াংচুক। সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকের শিক্ষাগত যোগ্যতা এবং তাঁর সঙ্গে পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও মার্কিন যোগসাজশ নিয়ে যে সমস্ত চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছিল, সে প্রসঙ্গে ওয়াংচুক স্পষ্ট জানান যে তিনি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার মতো জটিল বা দীর্ঘ তদন্ত চালাননি। তবে তৎকালীন উপ-রাজ্যপালসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক কর্তাদের তরফ থেকে বিদেশি অনুগামীদের নিয়ে যখন প্রশ্ন তোলা হয়, তখন তিনি নিজে সোশ্যাল মিডিয়ার ডেটা ও অনুগামীদের তালিকা খতিয়ে দেখেন।
ওয়াংচুক জানান, যাবতীয় তথ্য ঘেঁটে দেখা গেছে যে আন্দোলনকারীদের সমর্থক ও অনুগামীদের মধ্যে প্রায় ৯৪ শতাংশই খাঁটি ভারতীয় এবং মাত্র ৬ শতাংশ আন্তর্জাতিক অনুগামী। এরপর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে রসিকতা করে তিনি আরও বলেন, “ভারত সত্যিই বিশ্বগুরু! ভারত থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে যদি পাকিস্তানের মাটিতেও কোনো ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ গঠিত হতে চায়, তবে সেই প্রতিবাদেও নেতৃত্ব দেবে ভারতই!” মূলত সিজেপি সদস্যদের আন্দোলন এবং দিল্লির যন্তর মন্তরে তাঁদের সম্ভাব্য গ্রেফতারির খবর শোনার পরেই তাঁদের পাশে দাঁড়াতে এবং অনশনে বসতে তিনি সম্মত হয়েছিলেন বলে জানান লাদাখের এই প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ। আন্দোলনের আসল উদ্দেশ্য সৎ ছিল বলেই তিনি নিঃশর্তে সমর্থন জুগিয়েছিলেন। তবে ভবিষ্যতে যদি কোনো নতুন তথ্য সামনে আসে বা কোনো উচ্চপর্যায় প্রশাসনিক তদন্ত হয়, তবে যেকোনো মূল্যায়নের মুখোমুখি হতে তিনি যে সম্পূর্ণ প্রস্তুত, সে কথাও জোরের সঙ্গে স্পষ্ট করে দিয়েছেন সোনম ওয়াংচুক।