রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য লটারি! পুজোর পরেই নবান্নর মেগা চমক, অ্যাকাউন্টে আসবে মোটা টাকা

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এল নবান্ন। উৎসবের মরশুম কাটতে না কাটতেই কর্মচারীদের সুবিধার্থে এক বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। এখন থেকে নতুন বাইক, স্কুটার, মোপেড কিংবা ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক দু’চাকা গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে মিলবে অনেকটাই বেশি সরকারি ঋণ। গাড়ি কেনার ঋণের ঊর্ধ্বসীমা এক ধাক্কায় বেশ কিছুটা বাড়িয়ে দিয়েছে রাজ্য অর্থ দফতর।
অর্থ দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, বর্তমানে বাজারে যানবাহনের দাম যেভাবে বেড়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক স্কুটার বা ই-বাইক ব্যবহারে সরকারি কর্মীদের উৎসাহিত করতেই এই বিশেষ আর্থিক সুবিধা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত মুখ্যসচিব পি কে মিশ্রের স্বাক্ষর করা এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা অবিলম্বে রাজ্যজুড়ে কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে।
পেট্রোলচালিত গাড়ির ক্ষেত্রে ঋণের নতুন নিয়ম:
অর্থ দফতরের জারি করা নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, সাধারণ পেট্রোলচালিত মোটর সাইকেল বা স্কুটার কেনার জন্য প্রথম দফায় সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে। তবে এ ক্ষেত্রে নিয়ম হলো, সংশ্লিষ্ট কর্মীর পাঁচ মাসের মূল বেতন (Basic Pay) অথবা গাড়ির আসল দাম—এই দুটির মধ্যে যে অঙ্কটি কম হবে, ঠিক সেই পরিমাণ টাকাই ঋণ হিসেবে পাবেন তিনি। আর কোনো কর্মী যদি দ্বিতীয়বার পেট্রোলচালিত দু’চাকা গাড়ি কিনতে চান, তবে সে ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে।
ইলেকট্রিক যানে বাজিমাত, মিলবে বাড়তি সুবিধা:
পরিবেশবান্ধব ব্যাটারিচালিত যানবাহনের ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে সরকার। তাই ই-বাইক বা ইলেকট্রিক স্কুটার কেনার ক্ষেত্রে ঋণের পরিমাণ রাখা হয়েছে আরও বেশি। প্রথমবার ইলেকট্রিক দু’চাকা গাড়ি কিনলে কর্মচারীরা সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পেতে পারেন। এ ক্ষেত্রে কর্মীর ছয় মাসের মূল বেতন অথবা গাড়ির মোট মূল্যের মধ্যে যেটি কম হবে, সেই অঙ্কের টাকা মঞ্জুর করবে সরকার। তবে দ্বিতীয় দফায় ই-বাইক কেনার ক্ষেত্রে ঋণের সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছে ৯০ হাজার টাকা।
বাজারে ইলেকট্রিক ও সাধারণ যানবাহনের ক্রমবর্ধমান চাহিদা এবং অগ্নিমূল্যের বাজারে রাজ্য সরকারের এই পদক্ষেপে স্বভাবতই খুশি সরকারি কর্মচারীরা।