‘রাজ্য কংগ্রেসের পদ চিরকাল ধরে রাখতে পারি না’! শিবকুমারের মন্তব্যে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ার নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে

কর্নাটকে মুখ্যমন্ত্রী পদে পরিবর্তন নিয়ে জল্পনা এখন তুঙ্গে। এই জল্পনার পালে হাওয়া দিলেন উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার (ডিকেএস) নিজেই। বুধবার তিনি মন্তব্য করেছেন, “আমি চিরকাল রাজ্য কংগ্রেস প্রধানের পদ ধরে রাখতে পারি না।” পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে তিনি এই পদে আছেন জানিয়ে অন্যদেরও সুযোগ দেওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, তাঁর এই মন্তব্য শুধুমাত্র রাজ্য কংগ্রেস প্রধানের পদকে নিয়ে নয়, বরং তাঁর ইঙ্গিত ছিল মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারের দিকে।
১০ বিধায়কের দিল্লি সফর: জল্পনা তুঙ্গে
দলের অন্দরের খবর অনুযায়ী, কর্নাটকে কংগ্রেস সরকারের অন্দরে ভাঙনের কালো ছায়া দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার ১০ জন কংগ্রেস বিধায়কের একটি দল তড়িঘড়ি দিল্লি গিয়েছে। জানা যাচ্ছে, এঁরা সকলেই উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমারের শিবিরের লোক।
সূত্রের দাবি, বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়াকে সরিয়ে এবার শিবকুমারকে কর্নাটকের মসনদে বসানোর বিষয়ে তদ্বির করতেই তাঁদের এই রাজধানী সফর। এমনিতেই সিদ্দারামাইয়া-শিবকুমারের মধ্যেকার সংঘাত এখন অনেক স্পষ্ট। তার মধ্যে বিধায়কদের দিল্লি সফর ঘিরে পরিস্থিতি আরও জটিল হলো বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
‘টার্ম’-এর অর্ধেক পূর্ণ: উসকে গেল গুঞ্জন
আসলে দু’বছর আগে বিপুল জনাদেশ নিয়ে কর্নাটকে ক্ষমতায় ফেরে কংগ্রেস। তখন থেকেই মুখ্যমন্ত্রীর কুরসি নিয়ে দুই শিবির আড়াআড়ি ভাগ হয়ে যায়। একদিকে প্রবীণ নেতা ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া, অন্যদিকে উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার। তবে সকলে একবাক্যে মেনে নেন যে, ক্ষমতায় ফিরে আসার পিছনে শিবকুমারের ভূমিকা ছিল অন্যতম। তারপরও মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসানো হয় সিদ্দারামাইয়াকে।
গতকালই কর্নাটক সরকারের আড়াই বছর পূর্ণ হয়েছে। সিদ্দারামাইয়া পদে বসার পর থেকেই কর্নাটকের রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন ছিল যে, ‘টার্ম’-এর অর্ধেক পূর্ণ হলেই তিনি সরে যাবেন এবং তাঁর স্থলাভিষিক্ত হবেন শিবকুমার। এবার সেই জল্পনাই বিপুল আকার নিল।
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের মে মাস থেকে শিবকুমার কর্নাটক প্রদেশ কংগ্রেস কমিটির সভাপতি পদে রয়েছেন। তিনি জানান, ২০২৩ সালের মে মাসে উপ-মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরেই তিনি এই পদ ছাড়তে চেয়েছিলেন, কিন্তু রাহুল গান্ধি এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গে তাঁকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে বলেছিলেন।