রাজ্যের মুকুটে নতুন পালক, যাত্রীসাথীকে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘সেরা নগর পরিবহণ প্রকল্প’ পুরস্কার!

বেসরকারি অ্যাপ-ক্যাবগুলির চড়া কমিশনের হার নিয়ে চালক সংগঠনগুলির দীর্ঘদিনের অসন্তোষ দূর করতে ২০২৩ সালের জুলাই মাসে শুরু হয়েছিল রাজ্য সরকারের ‘যাত্রী সাথী’ পাইলট প্রকল্প। হলুদ ট্যাক্সি চালকদের নিয়ে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি বর্তমানে কেন্দ্রীয় নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের কাছ থেকে ‘সেরা নগর পরিবহণ প্রকল্প’-এর স্বীকৃতি লাভ করেছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই এই সাফল্যের খবর জানিয়েছেন। তিনি জানান, বর্তমানে এই অ্যাপের সঙ্গে ১.৩ লক্ষ চালক যুক্ত এবং ৪৫ লক্ষ যাত্রী নিয়মিত এটি ব্যবহার করেন। কলকাতা ছাড়াও আসানসোল, শিলিগুড়ি এবং দুর্গাপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলিতেও এই অ্যাপের পরিষেবা চালু রয়েছে।

যাত্রী ও চালকের সুবিধা:

‘যাত্রী সাথী’ অ্যাপের প্রধান আকর্ষণ হলো এতে কোনো কমিশন বা ‘সার্জ প্রাইসিং’ নেই। ফলে তুলনামূলকভাবে কম ভাড়ায় ক্যাব বুক করতে পারেন যাত্রীরা। এছাড়া, অ্যাপের একটি অভিনব ফিচার হলো—চালক যখন ‘পিক আপ লোকেশনে’ পৌঁছান, তখন যাত্রীর মোবাইলে হর্নের মতো অ্যালার্ট বাজতে শুরু করে, ফলে মোবাইলের স্ক্রিনে বার বার চোখ রাখার প্রয়োজন হয় না।

মহিলাদের নিরাপত্তায় বিশেষ গুরুত্ব:

এই অ্যাপে মহিলা যাত্রীদের সুরক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে। রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে মহিলা যাত্রীরা সর্বাধিক দু’জন বিশ্বস্ত ব্যক্তির নম্বর অ্যাপে যুক্ত করতে পারেন। সফরের সময়ে যাত্রীর পথের হদিশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছে যায়।

সুরক্ষার অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে:

চালক ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল পথে গেলে বা অকারণে গাড়ি থামালে অ্যাপের হেল্পলাইন থেকে সরাসরি চালকের কাছে ফোন যাওয়ার সুবিধা।

সুরক্ষা সংক্রান্ত বিষয়ে সরাসরি হেল্পলাইনে ফোন করে সাহায্য চাওয়ার সুযোগ।

ক্যাবে কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস ফেলে এলে অভিযোগ জানানোর সহজ ব্যবস্থা।

রাজ্য সরকার বর্তমানে ধাপে ধাপে ক্যাবের সংখ্যা বাড়ানো এবং বুকিং প্রক্রিয়াকে আরও সহজ করার জন্য নতুন পরিকল্পনা নিচ্ছে। এই কেন্দ্রীয় স্বীকৃতি বাংলার পরিবহণ ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করল।