রাজ্যের আকাশপথে বিপ্লব! হাসিমারা-কোচবিহার সহ ৪ নতুন বিমানবন্দর গড়তে আজই ঐতিহাসিক মৌ স্বাক্ষর নবান্নে

রাজ্যের আকাশপথে পরিবহণের ক্ষেত্রে আজ এক নতুন ও ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে। কেন্দ্রের महत्त्वाকাঙ্ক্ষী উড়ান প্রকল্পের আওতায় বাংলার আরও চারটি নতুন বিমানবন্দরকে যুক্ত করার পথে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে সরকার। এই উদ্দেশ্যে আজ, সোমবার নবান্ন সভাঘরে অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রকের সঙ্গে রাজ্য পরিবহণ দফতরের একটি গুরুত্বপূর্ণ মৌ (MoU) স্বাক্ষরিত হতে চলেছে। এই চুক্তির ফলে হাসিমারা, কোচবিহার, বালুরঘাট এবং হলদিয়ায় বিমানবন্দর তৈরির দীর্ঘদিনের উদ্যোগ বাস্তবায়নের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।
প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় উড়ান প্রকল্পের অধীনে এই চার নতুন বিমানবন্দর থেকে ৭২ আসন বিশিষ্ট বিমান চলাচল করবে। এর ফলে রাজ্যের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা যেমন আমূল বদলে যাবে, তেমনই ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পায়নেও অভূতপূর্ব গতি আসবে। শুধু অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ নয়, আন্তর্জাতিক উড়ান পরিষেবা চালুর বিষয়েও আজ বড় দরবার করতে চলেছে রাজ্য। নবান্ন সূত্রে খবর, কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নাইডুর কাছে কলকাতা থেকে সরাসরি ইউরোপের উড়ান পুনরায় চালুর জন্য বিশেষ জোরালো আর্জি জানাবেন মুখ্যমন্ত্রী।
উল্লেখ্য, এক সময় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সরাসরি লন্ডন, প্যারিস বা বার্লিনের মতো ইউরোপীয় শহরগুলিতে বিমান পরিষেবা চালু ছিল। ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, লুফথহানসা এবং এয়ার ফ্রান্সের মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করত। কিন্তু দীর্ঘদিনের আইনি ও দ্বিপাক্ষিক জটিলতার কারণে সেই সরাসরি বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়, ফলে বর্তমানে যাত্রীদের দিল্লি, মুম্বই বা দুবাই হয়ে যাতায়াত করতে হয়। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে রাজ্যে ডাবল ইঞ্জিন সরকারের সুবিধা থাকায় ইউরোপীয় উড়ান ফের চালু হওয়ার প্রবল আশা তৈরি হয়েছে।
অতীতে এই সমস্ত প্রকল্প রূপায়ণে জমির অভাব একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ২০১৪-র পরবর্তী সময়ে কেন্দ্রের তরফ থেকে হাসিমারায় ৩৭ একর এবং কলাইকুণ্ডায় ২৫ একর জমি চাওয়া হলেও পূর্ববর্তী সরকার তাতে সায় দেয়নি। তবে বর্তমান রাজনৈতিক পালাবদলের পর সেই সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক জট সম্পূর্ণ কেটে গেছে। বর্তমান সরকার হাসিমারা ও কলাইকুণ্ডায় বিমানবন্দর তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত জমির অনুমতি দিয়েছে এবং বালুরঘাট ও হলদিয়াতেও জমি সুনিশ্চিত করা হয়েছে।
যেহেতু এই পুরো প্রক্রিয়ায় পরিবহণ দফতর নোডাল এজেন্সির ভূমিকা পালন করছে, তাই আজ নবান্নে রাজ্যের পরিবহণ মন্ত্রী অর্জুন সিং এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর উপস্থিতিতে এই চুক্তি সম্পন্ন হবে। পাশাপাশি, কল্যাণী শহরে একটি নতুন গ্রিনফিল্ড এয়ারপোর্ট তৈরির লক্ষ্যেও ইতিমধ্যেই দুই হাজার একর জমি চিহ্নিত করে ফেলেছে রাজ্য সরকার। সব মিলিয়ে, আজকের এই মেগা চুক্তি বাংলার আকাশপথে পরিবহণ মানচিত্রকে সম্পূর্ণ বদলে দেবে এবং জাতীয় স্তরে রাজ্যের গুরুত্ব বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।