এমপিএসসি দুর্নীতির প্রতিবাদে পুণেতে উত্তাল আন্দোলন! অভিজিৎ দীপকের হুঁশিয়ারিতে পারদ চড়ছে রাজনৈতিক মহলে

মহারাষ্ট্র পাবলিক সার্ভিস কমিশন (এমপিএসসি)-এর চেয়ারম্যান রাজেশ ভিম্যানওয়ারের পদত্যাগের দাবিতে পুণেতে গত চার দিন ধরে চলা বিক্ষোভ আন্দোলন নতুন মাত্রা নিয়েছে। রাজ্যের ক্ষুব্ধ পরীক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে এবং তাঁদের মনোবল বাড়াতে শুক্রবার আন্দোলনস্থলে উপস্থিত হন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপক। এনসিপি (শরদ পাওয়ার) এবং বিধায়ক রোহিত পাওয়ারের নেতৃত্বে চলা এই ছাত্র আন্দোলনের মঞ্চ থেকে সোচ্চার হয়ে অভিজিৎ ঘোষণা করেন যে, আগামী ১০ ডিসেম্বর থেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে তিনিও দিল্লিতে প্রতিবাদ আন্দোলনে নামবেন। পুণে ও দিল্লি—উভয় লড়াকু আন্দোলনকেই যুক্ত করে দুই চেয়ারপার্সনকেই ইস্তফা দিতে বাধ্য করার হুংকার দিয়েছেন তিনি।

পুণের এস এম জোশী সেতুর কাছে আন্দোলনরত পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে সিজেপি প্রধান বলেন, বর্তমান ক্ষমতায় থাকা রাজনীতিবিদদের চেয়ে প্রার্থীরা অনেক বেশি শিক্ষিত ও সচেতন। ডিগ্রিহীন ব্যক্তিরা ক্ষমতার শীর্ষে বসে থাকার কারণেই দেশের আজ এই শোচনীয় অবস্থা এবং সর্বত্র প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটছে। বিধায়ক ভাঙানোর রাজনীতিকে কটাক্ষ করে তিনি মন্তব্য করেন যে, এমএলএ বা সাংসদদের এভাবে কেনার চেয়ে সরকার বরং আইপিএল-এর মতো নিলামের মাধ্যমে তাদের সরাসরি দরদাম করুক। বাবাসাহেব আম্বেদকরের দেওয়া ভোটাধিকার ও সংবিধানের সঠিক মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, তরুণ প্রজন্ম একজোট হলে এই দুর্নীতির দেওয়াল ভেঙে চুরমার হয়ে যাবে।

মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশকে সরাসরি নিশানা করে অভিজিৎ বলেন, ফড়নবীশ নিজের বন্ধুকে এমপিসি-র চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করেছেন, যা একপ্রকার ‘ফ্রেন্ডস উইথ বেনিফিটস’-এর সমতুল্য এবং এখানে প্রধান বেনিফিট বা সুবিধা হলো দুর্নীতি। গুজরাটের প্রতি অতি প্রীতির কটাক্ষ করে তিনি বলেন, সব শিল্প তো বটেই, বরং আপনারাও এবার গুজরাটে চলে যান। অন্যদিকে, এই আন্দোলনে মহারাষ্ট্র পুলিশের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন, দেশের সেরা পুলিশ হল মহারাষ্ট্র পুলিশ। দিল্লি পুলিশের থেকে তাদের অনেক কিছু শেখার আছে। প্রয়োজনে পুণে বনধ ডেকে এমপিসি চেয়ারম্যানের পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো করার পরামর্শ দিয়েছেন সিজেপি প্রধান।