রাগের বশে এক কমেন্ট আর সোজা ফাঁসির কাঠে! ফেসবুক পোস্ট কীভাবে জীবন কেড়ে নিল শ্রীলঙ্কান যুবকের?

রাগের বশে ফেসবুক পোস্টই কাল হল, সৌদিতে ফাঁসির দড়িতে ঝুলতে হবে শ্রীলঙ্কার যুবককে, ছেলের প্রাণভিক্ষা মায়ের
রাগের বশে সোশ্যাল মিডিয়ায় করা একটি কমেন্ট কীভাবে কারও জীবন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে, তার এক মর্মান্তিক নজির সামনে এল। একটি ফেসবুক পোস্টে কমেন্ট করার অপরাধে ২৪ বছর বয়সি এক শ্রীলঙ্কান যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে সৌদি আরবের আদালত। পরে সেই কমেন্ট মুছে ফেলে ক্ষমা চাওয়ার পরেও রক্ষা মেলেনি। এই ঘটনায় গোটা বিশ্বে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম অনোজন শিভারাসা। তিনি সৌদি আরবে অভিবাসী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। শ্রীলঙ্কায় একটি ধর্মীয় ঘটনাকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় তৈরি হওয়া তীব্র উত্তেজনার জেরে একটি ভিডিওর প্রতিক্রিয়ায় তামিল ভাষায় ধর্মীয় অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগ ওঠে অনোজনের বিরুদ্ধে। যদিও পরিস্থিতি বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত সেই কমেন্ট ডিলিট করে দেন এবং একটি ভিডিও বার্তা প্রকাশ করে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চান।
কিন্তু ততক্ষণে সেই মন্তব্যের স্ক্রিনশট পৌঁছে যায় সৌদি আরবে তাঁর নিয়োগকর্তা এবং স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কাছে। গত জুলাই মাসে অনোজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাঁর ফোন বাজেয়াপ্ত করা হয়। প্রথমে আল-আহসা ক্রিমিনাল কোর্ট সাইবার অপরাধ আইনের আওতায় তাঁকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড ও ৩০ লক্ষ সৌদি রিয়াল জরিমানার নির্দেশ দিয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীতে মামলার মোড় ঘুরে যায়।
গত ১৭ সেপ্টেম্বর সৌদি প্রসিকিউশন মামলাটিকে সাইবার অপরাধ আইনের পরিবর্তে কড়া শরিয়া আইনের আওতায় বিবেচনার আবেদন করে। আপিল আদালত সেই আবেদন মঞ্জুর করার পরেই কারাদণ্ড বদলে অনোজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এই ভয়াবহ খবর সামনে আসতেই শ্রীলঙ্কাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ২৮ সেপ্টেম্বরের পর থেকে ছেলের সঙ্গে পরিবারের আর কোনো যোগাযোগ নেই।
ছেলের প্রাণ বাঁচাতে আর্তনাদ করে উঠেছেন অনোজনের মা রাসামানিক্কাম যোগলক্ষ্মী। কাঁদতে কাঁদতে তিনি জানান, “আমার ছেলের ভুলের জন্য আমি ক্ষমা চাইছি। দয়া করে তাঁকে ক্ষমা করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দিন।” অন্যদিকে, অনোজনের জীবন বাঁচাতে আসরে নেমেছে শ্রীলঙ্কা সরকারও। প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিসানায়েকে নিজে পরিবারের সঙ্গে দেখা করে সব রকম কূটনৈতিক পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছেন। পাশাপাশি, সৌদি আরবে আইনি লড়াই চালাতে শ্রীলঙ্কা থেকে একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল পাঠানোর পরিকল্পনা করা হয়েছে। এখন দেখার, রাজকীয় ক্ষমার সুবাদে যুবকের জীবন রক্ষা পায় কি না।