রণক্ষেত্র জলন্ধর-লখনউ! ছাত্র বিক্ষোভে অবরুদ্ধ জাতীয় মহাসড়ক, পুলিশের লাঠিচার্জে রক্ত ঝরল পড়ুয়াদের

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে ছাত্র বিক্ষোভ এবার মারাত্মক রূপ নিল। পাঞ্জাবের জলন্ধর এবং উত্তর প্রদেশের লখনউ—এই দুই প্রধান শহরে পড়ুয়াদের ক্ষোভ আছড়ে পড়ল রাজপথে। উত্তপ্ত পরিস্থিতির জেরে একদিকে যেমন বন্ধ হয়ে গেল হাইওয়ে, তেমনই পুলিশের লাঠিচার্জে রক্তাক্ত হতে হলো বহু ছাত্রছাত্রীকে। অন্য একটি ঘটনায় সহপাঠীর মৃত্যুর বিচার চেয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন নার্সিং পড়ুয়ারা।

জলন্ধরের লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে (এলপিইউ) ধুন্ধুমার

পাঞ্জাবের জলন্ধরের বিখ্যাত লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটি বা এলপিইউ চত্বরে এদিন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। বিভিন্ন দাবি ও ক্ষোভকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা সহিংস আন্দোলনে ফেটে পড়েন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, আন্দোলনরত ছাত্ররা সরাসরি দিল্লি-অমৃতসর জাতীয় মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বিশাল পুলিশ বাহিনী। মহাসড়ক থেকে বিক্ষোভকারীদের সরাতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। পুলিশি হঠাও-অভিযানের জেরে বেশ কয়েকজন ছাত্র গুরুতর আহত হন। উত্তেজনার পারদ এতটাই চড়েছিল যে, এই সংঘর্ষের মাঝে বেশ কিছু যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। এর ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয় এবং গোটা এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

লখনউয়ের কেজিএমইউ-তে প্রতিবাদের ঝড়

অন্যদিকে, উত্তর প্রদেশের রাজধানী লখনউয়ের মর্যাদাপূর্ণ কিং জর্জ’স মেডিকেল ইউনিভার্সিটি বা কেজিএমইউ (KGMU)-তেও পরিস্থিতি উত্তপ্ত। এক সহপাঠীর আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুর প্রতিবাদে মুখ খুলেছেন সেখানকার নার্সিং শিক্ষার্থীরা। ন্যায়বিচারের দাবিতে এবং কর্তৃপক্ষের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে তাঁরা ক্যাম্পাসের ভেতরেই অবস্থান ধর্মঘট শুরু করেছেন। এই আন্দোলনের জেরে হাসপাতালের চিকিৎসা ও পঠনপাঠন ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

একের পর এক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এই ধরনের ছাত্র অসন্তোষ এবং অশান্তির ঘটনা দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক নজরদারি নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা চালালেও বর্তমানে দুই ক্যাম্পাসেই চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।