রক্তাক্ত পাইলটকে বেঁধে ফেললেন যাত্রীরা! দুবাই-তেল আভিভ ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া রোমহর্ষক কাণ্ডের আসল সত্যি প্রকাশ্যে

দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের এফজেড ১০৭৩ (FZ 1073) ফ্লাইটে ঘটে যাওয়া এক ভয়াবহ ও অবিশ্বাস্য ঘটনার নতুন ভিডিও সামনে আসতেই বিশ্বজুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ককপিটের ঠিক সামনে এক যাত্রীর ক্যামেরায় বন্দি হওয়া সেই মুহূর্তের দৃশ্যে দেখা গিয়েছে, রক্তাক্ত অবস্থায় ভারতীয় পাইলট ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর বিমানের যাত্রীদের কাছে আকুল হয়ে সাহায্য প্রার্থনা করছেন। ভিডিওতে তাঁকে যন্ত্রণায় কাতর হয়ে ‘হেল্প মি’ বা আমাকে বাঁচান বলতে শোনা গিয়েছে, যা দেখে শিউরে উঠেছেন সাধারণ মানুষ।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, দুবাই থেকে তেল আভিভ যাওয়ার পথে বিমানের ককপিটের ভেতরেই ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরের ওপর হঠাৎ চড়াও হন তাঁর ওমানি সহকারী পাইলট। কোনো পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই সহকারী পাইলট তাঁকে আক্রমণ করেন বলে অভিযোগ। ঠিক সেই মুহূর্তে বিমানটি আচমকাই তীব্র গতিতে নিচের দিকে নামতে শুরু করে, যার ফলে বিমানে থাকা ১৭৪ জন যাত্রীর মধ্যে হুড়োহুড়ি ও চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। কী কারণে এই আকস্মিক আক্রমণ এবং এর নেপথ্যে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শুরু হয়েছে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত।

তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে যে, গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর কোনোমতে ককপিটের দরজা খুলে দেন। তাঁর এই ত্বরিত পদক্ষেপের ফলেই যাত্রীরা ও ক্রু সদস্যরা ভেতরে ঢোকার সুযোগ পান। এমনকি বিমানে উপস্থিত অন্য দুই অফ-ডিউটি পাইলট ও সাহসী যাত্রীদের যৌথ হস্তক্ষেপে আক্রমণকারী সহকারী পাইলটকে বাগে আনা সম্ভব হয়। যাত্রীরা কেবিনের সরঞ্জামের তার ব্যবহার করে তাঁকে বেঁধে ফেলেন। শেষ পর্যন্ত তীব্র অনিশ্চয়তা ও আশঙ্কার মধ্যে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে বিমানটিকে নিরাপদে জরুরি অবতরণ করানো হয়।

হামলায় গুরুতর আহত ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছরকে প্রথমে সৌদি আরবে এবং পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য আবু ধাবিতে স্থানান্তরিত করা হয়। ভারতীয় মিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল রয়েছে এবং তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠছেন। অন্যদিকে, অভিযুক্ত ওমানি সহকারী পাইলটকে সৌদি প্রশাসন সংযুক্ত আরব আমিরশাহির হাতে তুলে দিয়েছে। এই ঘটনার পেছনে কোনো সন্ত্রাসী যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক তদন্তকারী দল কাজ করছে। উড়ন্ত বিমানের নিরাপত্তা এবং ককপিটের সুরক্ষা নিয়ে এই ঘটনা ফের একগুচ্ছ গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল।