যোগী আদিত্যনাথের ‘মিশন জল’: খরা রুখতে ১৮ জেলায় হাই-অ্যালার্ট, নজিরবিহীন নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর!

তীব্র দাবদাহ আর বৃষ্টির ঘাটতির ভ্রুকুটি সামাল দিতে এবার কার্যত রণকৌশল সাজিয়ে ফেললেন উত্তরপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথ। ২০২৬-২৭ খরিফ মরসুমের প্রস্তুতির এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, খরা মোকাবিলা এবং পানীয় জল সরবরাহে কোনো স্তরেই বিন্দুমাত্র গাফিলতি বরদাস্ত করবে না সরকার। খরাপ্রবণ ১৮টি জেলাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখার পাশাপাশি রাজ্যজুড়ে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

খরা মোকাবিলায় যোগীর ‘থ্রি-টায়ার’ প্ল্যান
মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন, ১৫ জুন থেকে ৩০ জুলাইয়ের মধ্যে খরা পরিস্থিতির সঠিক মূল্যায়ন করতে হবে। প্রতিটি জেলায় কন্ট্রোল রুম সক্রিয় করার পাশাপাশি পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে এনডিআরএফ-এর সাহায্য নেওয়ার রাস্তা খোলা রাখা হয়েছে। খালের পলি সাফাইয়ের কাজ ৩০ মে-র মধ্যে শেষ করার জন্য কড়া ডেডলাইন দিয়েছেন তিনি। আকর্ষণীয় বিষয় হলো, পুকুর থেকে তোলা মাটি বিনামূল্যে কুমোর ও প্রজাপতি সম্প্রদায়ের মানুষদের দেওয়া হবে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গতি আনবে।

জলকষ্ট দূর করতে কড়া নির্দেশ
রাজ্যের কোণায় কোণায় যেন পানীয় জলের সংকট না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিতে বলা হয়েছে। পাইপলাইনের পাশাপাশি প্রস্তুত রাখা হচ্ছে জলের ট্যাঙ্কার। শুধু মানুষ নয়, বন্যপ্রাণী ও গোশালাগুলির জন্য পর্যাপ্ত জলের ব্যবস্থা করার নির্দেশ দিয়েছেন যোগী। কৃষকদের স্বার্থে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সমস্ত সরকারি নলকূপ সচল রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বিপর্যয় মোকাবিলায় ১৯ হাজার ‘আপদা মিত্র’
আবহাওয়ার আগাম সতর্কবার্তা কৃষকদের কাছে পৌঁছে দিতে ‘আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম’ আরও উন্নত করা হচ্ছে। এই কাজে যুক্ত করা হচ্ছে ১৯,০০০-এর বেশি প্রশিক্ষিত ‘আপদা মিত্র’ বা স্বেচ্ছাসেবক। পাশাপাশি, হিট স্ট্রোকের মোকাবিলায় প্রতিটি হাসপাতালে বিশেষ ওয়ার্ড ও সচেতনতা অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রেশন বণ্টন এবং কালোবাজারি রুখতে পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারি বাড়ানোর বার্তাও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।