যোগীরাজ্যে ভোটের অঙ্ক নাকি ধর্মের অলক্ষ্মী বিদায়? তুঙ্গে ধীরেন্দ্র শাস্ত্রী-প্রদীপ মিশ্রদের ‘ডিমান্ড’!

রাজনৈতিক জনসভা, হাই-ভোল্টেজ প্রচার কিংবা হেভিওয়েট মিছিল নয়— উত্তরপ্রদেশের রাজনীতিতে এখন সবচেয়ে চড়া বাজারে বিক্রি হচ্ছে ধর্মকথা! ভাগবত কথা, রাম কথা থেকে শুরু করে শিব পুরাণ আয়োজনের নামে উত্তরপ্রদেশের কোণায় কোণায় চলছে রাজনীতির নতুন প্যাঁচ। ঝাঁসি থেকে লখনউ, আগ্রা থেকে গোণ্ডা— রাজ্যের ছোট-বড় বিধায়ক ও হেভিওয়েট রাজনৈতিক নেতারা এখন মাঠে নামিয়েছেন জনপ্রিয় সব ধর্ম প্রচারকদের। বিজেপি থেকে শুরু করে বিরোধী দলের বিধায়করাও এই ধর্মীয় আসর জমিয়ে নিজেদের ভাবমূর্তি তুলে ধরতে মরিয়া।
রাজনীতির এই নতুন কৌশলে কাটতি সবচেয়ে বেশি বাগেশ্বর ধামের প্রধান পুরোহিত ধীরেন্দ্র কৃষ্ণ শাস্ত্রীর। উত্তরপ্রদেশের রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে তাঁর দর এখন সবচেয়ে শীর্ষে। কুণ্ডার বিধায়ক রাজা ভাইয়া থেকে শুরু করে রাজ্যের একাধিক শাসক দলের বিধায়ক নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে তাঁর একাধিক হাই-প্রোফাইল ‘কথা’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন। ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর পাশাপাশি জনপ্রিয় কথা কথক রাজন জি মহারাজ, প্রদীপ মিশ্র এবং জয়া কিশোরীর ধর্মসভার চাহিদা এখন তুঙ্গে।
বিশ্বাস নাকি নিখাদ ভোটব্যাঙ্কের খেলা?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবচন বা ধর্মকতার মঞ্চগুলোকে এখন আর কেবল নিছক ভক্তি বা বিশ্বাসের জায়গা হিসেবে দেখছেন না উত্তরপ্রদেশের নেতারা। এই ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলোতে পলকে লাখো মানুষের জনসমাগম ঘটে, যা রাজনীতিবিদদের কোনো বাড়তি খাটাখাটনি ছাড়াই হাজার হাজার ভোটারের মুখোমুখি হওয়ার সুযোগ এনে দেয়। একটি ধর্মীয় ও আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে আমজনতার সঙ্গে জনসংযোগ সুদৃঢ় করার এই দাওয়াই এখন যোগীরাজ্যের সব দলের নেতারাই লুফে নিচ্ছেন। ভোটের সমীকরণ যে পথেই হাঁটুক না কেন, নেতাদের আয়োজিত এই ধর্মসভায় আপাতত উত্তরপ্রদেশের রাজপথ ভক্তি ও রাজনীতির মিশেলে সরগরম!