দীপাবলির মিষ্টির প্লেটে মারাত্মক বিষ? দিল্লির শোরুম ও কারখানায় সরকারের নজিরবিহীন রেড!

দীপাবলি ও ধনতেরসের উৎসবের মেজাজের মাঝেই সাধারণ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে এবার অ্যাকশন মোডে নামল দিল্লি সরকার। উৎসবের মুখে মিষ্টি, পনির ও দুগ্ধজাত সামগ্রীতে ভেজালের বাড়বাড়ন্ত রুখতে গোটা রাজধানী জুড়ে খাদ্য সুরক্ষা বিভাগকে (Food Safety Department) চিরুনি তল্লাশি চালানোর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা।

ইতিমধ্যেই উত্তর-পূর্ব, পূর্ব, শাহদারা, দক্ষিণ এবং দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির একাধিক বড় নামী মিষ্টির দোকান, ডেইরি ফার্ম এবং খাদ্য উৎপাদন কারখানায় অভিযান চালিয়েছে সরকারের বিশেষ স্কোয়াড। মানসম্পন্ন ও বিশুদ্ধ খাবার সরবরাহ সুনিশ্চিত করতে পরীক্ষার জন্য খোয়া, পনির, ঘি, কালাকান্দ, লাড্ডু, গোলাপ জামুন ও ড্রাই ফ্রুটসের প্যাকেটসহ মোট ৪০টি সন্দেহজনক খাদ্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

মান্ডোলিতে উদ্ধার দুর্গন্ধযুক্ত পচা খোয়া ও রসগোল্লা অভিযান চালাতে গিয়ে মান্ডোলি এক্সটেনশনের একটি দুগ্ধ খামারে এক হাড়হিম করা ও বিপজ্জনক দৃশ্য চোখে পড়ে পরিদর্শক দলের। সেখানে মশা-মাছি ভেসে থাকা এবং মারাত্মক দুর্গন্ধযুক্ত অবস্থায় রাখা খোয়া, রসগোল্লা ও দুধ বাজেয়াপ্ত করা হয়। মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য চরম ক্ষতিকারক এই দূষিত খাদ্য সামগ্রীর গুরুত্ব বিবেচনা করে খাদ্য সুরক্ষা বিভাগ তৎক্ষণাৎ প্রায় ১০০ কিলোগ্রাম পচা ও ভেজাল খাদ্যদ্রব্য ঘটনাস্থলেই নষ্ট ও ধ্বংস করে দেয়।

কঠোর হুঁশিয়ারি মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তার খাদ্য নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করার বিষয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা সাফ জানিয়েছেন, “প্রতিটি পরিবারের টেবিলে পৌঁছানো খাদ্যদ্রব্য সম্পূর্ণ বিশুদ্ধ ও নিরাপদ হলেই উৎসবের প্রকৃত আনন্দ অর্থবহ হয়ে ওঠে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যবিধি ও সুরক্ষাকে হেলায় ঠেলে দেওয়া এক অমার্জনীয় অপরাধ। ভেজালকারীদের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি বজায় রাখা হবে।”

মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশের পর শোরুম ও বড় কারখানাগুলোতে নিয়মিত আচমকা পরিদর্শন (Surprise Inspection) অব্যাহত রাখা হয়েছে। খাদ্যে সামান্যতম অনিয়ম বা ভেজাল ধরা পড়লেই সংশ্লিষ্ট কারখানা সিল করে দেওয়ার পাশাপাশি অলঙ্ঘনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।