যে ফল হারিয়ে গিয়েছিল নিজের জেলা থেকেই! জলপাইগুড়ির রূপ ফেরাতে মাঠে নামছেন খোদ রাজ্য মন্ত্রী

জেলার নাম ‘জলপাইগুড়ি’, কিন্তু বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে সেই জেলাতেই একটা আস্ত জলপাই গাছ খুঁজে পাওয়া যেন দায়! জেলার এই প্রাচীন নামের উৎপত্তি নিয়ে ইতিহাসবিদ ও গবেষকদের মধ্যে একাধিক মতামত কিংবা বিতর্ক যাই থাকুক না কেন, এবার কিন্তু নামের সেই আসল ঐতিহ্য ও সার্থকতা ফেরাতে কোমর বেঁধে মাঠে নামছে রাজ্য সরকার। জলপাইগুড়ি জেলাজুড়ে বিস্তৃত পরিসরে জলপাই চাষের প্রসারে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে রাজ্য উদ্যান পালন দফতর।

শুক্রবার জলপাইগুড়ির ঐতিহাসিক মোহিতনগরে অবস্থিত উদ্যান পালন দফতরের খামারে আয়োজিত এক বিশেষ কৃষক আলোচনাসভায় এই যুগান্তকারী পরিকল্পনার কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান দফতরের মন্ত্রী ড. কল্যাণ চক্রবর্তী।

চাষিদের স্বনির্ভরতার পথ ও বাণিজ্যিক সম্ভাবনা: সভায় উপস্থিত এলাকার কৃষকদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রথাগত ধান-গম বা সবজি চাষের পাশাপাশি তাঁরা যেন নিজেদের জমির অন্তত কিছু অংশে জলপাই গাছ রোপণ করেন। কারণ হিসেবে তিনি তুলে ধরেন যে, দৈনিক খাদ্যতালিকায় ডাল, মুখরোচক চাটনি এবং আচারের উৎপাদনে বিশ্বজুড়ে জলপাইয়ের এক বিপুল এবং নিয়মিত বাণিজ্যিক চাহিদা রয়েছে।

চাষিদের উৎসাহিত ও আশ্বস্ত করে ড. কল্যাণ চক্রবর্তী জানান, এই প্রকল্পের জন্য প্রয়োজনীয় সমস্ত উচ্চফলনশীল চারা গাছ সরবরাহ করা এবং কারিগরি জ্ঞান সংক্রান্ত যাবতীয় সহযোগিতা দেবে রাজ্য উদ্যান পালন দফতর।

বিকল্প ও লাভজনক ফসলে জোর: শুধু জলপাই চাষই নয়, এলাকার কৃষকদের আর্থিক উন্নতি ঘটাতে বিকল্প লাভজনক ফসল চাষের ওপরও বিশেষ জোর দেন মন্ত্রী। তিনি বিশেষ করে বাজারে ব্যাপক চাহিদা থাকা তেজপাতা, কাঁঠাল এবং থাইল্যান্ড-মালয়েশিয়ার মতো দেশের জনপ্রিয় কমার্শিয়াল ফল ‘রামবুটান’ (যা কেশযুক্ত লিচু নামেও পরিচিত) চাষের পরামর্শ দেন।

উদ্যান পালন দফতরের এই ঐতিহাসিক ও বাণিজ্যিক উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন জেলার নামের ঐতিহ্য ফিরে আসবে, তেমনই জলপাইগুড়ির গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

Aditi Banik
  • Aditi Banik