“যেখানে পুলিশ আটকাবে, সেটাই হবে যন্তর মন্তর!” গণতন্ত্র বাঁচাও আন্দোলনের দ্বিতীয় দিনে তুঙ্গে রাজনৈতিক পারদ

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিরোধীদের ‘গণতন্ত্র বাঁচাও আন্দোলন’-এর আজ শনিবার দ্বিতীয় দিন। আন্দোলন দমাতে শুক্রবার দিল্লি পুলিশ ৭০০-র বেশি বিরোধী নেতা-কর্মীকে আটক করায় দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়েছে। ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) সাফ জানিয়েছে, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ফের ‘দিল্লি চলো’ আন্দোলন শুরু হবে এবং আগামী ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে আরও বড় বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার দিল্লির যন্তর মন্তরে বাম, কংগ্রেস থেকে শুরু করে আম আদমি পার্টি (আপ)-সহ একাধিক বিরোধী দলের কর্মী-সমর্থকরা প্রতিবাদে ফেটে পড়েন। আন্দোলনকারীদের সরাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি ও জোর করে বাসে তোলার মতো ঘটনা ঘটে। একই দাবিতে কলকাতার রানি রাসমণি রোড থেকে গান্ধীমূর্তি পর্যন্ত প্রতিবাদ মিছিল করে বামেরা। দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের একটি চাঞ্চল্যকর প্রতিবেদন প্রকাশের পর থেকেই মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তীব্র হয়েছে এবং তাঁর পদত্যাগের দাবি জোরালো রূপ নিয়েছে। ইতিপূর্বে যে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলনের চাপে পড়ে নরেন্দ্র মোদি সরকার শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে সরাতে বাধ্য হয়েছিল, এবার সেই দলই সরাসরি নিশানা করেছে জ্ঞানেশ কুমার ও মোদি সরকারকে।

শুক্রবার মুম্বইতে এই আন্দোলনের সূচনা করেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। আন্দোলনকারীদের নৈতিক সমর্থন জানাতে ভিড় জমান বিনোদন জগতের বিশিষ্ট তারকারা। অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ স্বয়ং দীপকের সঙ্গে দেখা করেন এবং অভিনেত্রী শাবানা আজমিও এই আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে যোগ দেন।

পরিস্থিতি সামাল দিতে ককরোচ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে একটি তাৎপর্যপূর্ণ সামাজিক মাধ্যম পোস্টে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন, “মহাত্মা গান্ধীর দেখানো পথেই আমাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে। যে জায়গায় দিল্লি পুলিশ আমাদের আটকাবে, সেটাই আমাদের কাছে যন্তর মন্তরে পরিণত হবে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ করতে দেওয়া হবে, নাকি অতীতের মতো দমনপীড়ন চালানো হবে—তা সরকার ও দিল্লি পুলিশকে ঠিক করতে হবে।” গণতন্ত্র রক্ষা ও অবাধ ও স্বচ্ছ নির্বাচন সুনিশ্চিত করতে তিনি সর্বস্তরের মানুষকে এই আন্দোলনে শামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। দেশজুড়ে চলা এই মেগা আন্দোলন আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।