যুক্তরাজ্য কি শেষের পথে? স্কটল্যান্ড থেকে উত্তর আয়ারল্যান্ড পর্যন্ত স্বাধীনতার দাবমে কাঁপছে লন্ডন!

যুক্তরাজ্য কি আবারও বড় ধরনের বিভাজন ও পতনের হুমকির মুখোমুখি? স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডের জাতীয়তাবাদী নেতারা বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসন এবং নিজেদের সাংবিধানিক ভবিষ্যৎ নির্ধারণের জন্য স্বাধীনতার গণভোট আয়োজনের দাবিতে একজোট হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য টেলিগ্রাফ’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই তিন দেশের নেতারা ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হতে চলেছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, কার্ডিফের এই বৈঠকে নেতারা একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করবেন, যা লন্ডনের কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর প্রচণ্ড রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করবে। সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন যে, স্পষ্ট জনসমর্থন থাকলে তিনি স্কটল্যান্ডে আরেকটি স্বাধীনতা গণভোটের অনুমোদন দিতে ইচ্ছুক। এর পাশাপাশি, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক আয়ারল্যান্ড সফরকালে দেওয়া একটি মন্তব্য এই বিতর্ককে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ডাবলিন সফরে ট্রাম্প একটি ঐক্যবদ্ধ আয়ারল্যান্ডের পক্ষে নিজের সমর্থন ব্যক্ত করে প্রশ্ন তোলেন যে, এতে ভুলটা কোথায়? আন্তর্জাতিক মহলের এই ইঙ্গিতের পরেই যুক্তরাজ্য সরকারের ওপর জাতীয়তাবাদীদের চাপ চরম আকার ধারণ করেছে।
বর্তমানে স্কটল্যান্ড, ওয়েলস এবং উত্তর আয়ারল্যান্ড—তিনটি অঞ্চলেই এমন রাজনৈতিক দলগুলি সরকার পরিচালনা করছে, যারা সরাসরি স্বাধীনতা বা বৃহত্তর স্বায়ত্তশাসনের পক্ষে সোচ্চার। স্কটল্যান্ডের ফার্স্ট মিনিস্টার এবং এসএনপি নেতা জন সুইনি বর্তমান পরিস্থিতিকে ব্রিটিশ রাজনীতির এক বিরাট সন্ধিক্ষণ বলে উল্লেখ করে মন্তব্য করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী বার্নহ্যাম এমন এক রাজনৈতিক বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছেন যেখানে ইতিহাস তাঁকে ‘যুক্তরাজ্যের শেষ প্রধানমন্ত্রী’ হিসেবে মনে রাখতে পারে। কার্ডিফের এই বৈঠকে তিন অঞ্চলের শীর্ষ নেতাদের পাশাপাশি সিন ফেইন-এর প্রেসিডেন্ট ও আইরিশ বিরোধীদলীয় নেত্রী মেরি লু ম্যাকডোনাল্ডও উপস্থিত থাকবেন। সবমিলিয়ে, লন্ডনের ক্ষমতার একচ্ছত্র আধিপত্য ভেঙে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্র আমূল বদলে দেওয়ার এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা শুরু হয়েছে।