যন্তর মন্তরের পর এবার নির্বাচন কমিশন! সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে ৪৮ ঘণ্টার চরম হুঁশিয়ারি সিজেপির

নিট-ইউজি (NEET-UG) কাণ্ড নিয়ে যন্তর মন্তরে টানা ৪৯ দিনের আন্দোলনের পর এবার নির্বাচন কমিশনকে পাখির চোখ করল ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে এক সংবাদ সম্মেলন ডেকে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগের দাবি তুলেছে সংগঠনটি। সিজেপি-র প্রতিষ্ঠাতা ও আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার সরে না দাঁড়ালে দেশজুড়ে জোরদার আন্দোলন শুরু হবে এবং দিল্লিতে হতে চলেছে ‘যন্তর মন্তর ২.০’।

সংবাদ সম্মেলনে দলের সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কার তিন দফা প্রধান দাবি পেশ করেন। যার মধ্যে রয়েছে—

  • মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ।

  • সিইসি এবং তাঁর নেপথ্যে থাকা নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের।

  • প্রস্তাবিত সমস্ত নির্বাচন আপাতত স্থগিত রাখা এবং ২০২৩ সালের বিতর্কিত নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ আইন বাতিল করা।

ভোটার তালিকা সংশোধনে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

চলমান ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে মারাত্মক সব অভিযোগ তুলেছেন সিজেপি নেতৃত্ব। তাঁদের দাবি, এসআইআর প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকার স্থিতাবস্থা ফেরাতে হবে। সমস্ত নথিপত্র সুপ্রিম কোর্টের নজরদারিতে গঠিত নিরপেক্ষ কমিটির হেফাজতে রাখার দাবি জানানো হয়েছে।

অভিজিৎ দীপকের অভিযোগ, জ্ঞানেশ কুমার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল ও রাজ্যগুলোতে প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তার করা হচ্ছে। এমনকি ভোটার তালিকা থেকে বিরোধীদের ভোট ছাঁটাইয়ের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল প্রভাবিত করার চেষ্টাও চলছে।

কমিশনে অভ্যন্তরীণ ফাটল ও আইনি চাপ

সম্প্রতি জাতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর একটি বিস্ফোরক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে কমিশনের ভেতরের চরম মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসে। রিপোর্টে জানা যায়, নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু এবং বিবেক যোশী গত ১০ মাসে কমিশনের নানা বিতর্কিত পদক্ষেপে অন্তত ১৪ বার লিখিত আপত্তি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, সুপ্রিম কোর্টের দরজাতেও পৌঁছেছে এই বিতর্ক। সিইসি জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালত অবমাননার মামলা দায়েরের অনুমোদন চেয়ে অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে আর্জি জানিয়েছেন আইনজীবী ব্রজেশ সিং। তাঁর মতে, বহু-সদস্যের সাংবিধানিক সংস্থায় অন্য দুই কমিশনারকে এড়িয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকার পরিপন্থী।

যদিও সমস্ত বিতর্ক উড়িয়ে দিয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ আলোচনায় নানা মতামত ও পর্যবেক্ষণ থাকাটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বাভাবিক অঙ্গ। এসআইআর সহ অন্যান্য সমস্ত সিদ্ধান্তই তিন কমিশনারের সর্বসম্মতিক্রমে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি কমিশনের।

তবে সিজেপি তাদের অবস্থানে অনড়। শিক্ষা মন্ত্রকের পর এবার নির্বাচন কমিশনের সংস্কারে ‘ইলেকশন কমিশন ঠিক করো’ স্লোগান তুলে রাজপথে নামার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে যুব সংগঠনটি।