পশ্চিম সিকিমে ফের ধসের বীভৎস তাণ্ডব! গ্রামের দিকে ঘুরল গতিপথ, চরম আতঙ্কে একাধিক এলাকা

লাগাতার বর্ষণে ফের বিপর্যস্ত পাহাড়ি রাজ্য সিকিম। ভারী বৃষ্টির জেড়ে পশ্চিম সিকিমে নেমে এসেছে ভয়াবহ ধস। পাহাড়ের ঢাল বেয়ে হু হু করে নেমে আসছে বিপুল পরিমাণ পাথর, মাটি ও কাদার ধ্বংসাবশেষ। সবথেকে উদ্বেগের বিষয় হলো, ধসের গতিপথ এবার সরাসরি রিম্বি গ্রামের জনবসতির দিকে ঘুরে গিয়েছে। যার ফলে একাধিক ঘরবাড়ি চরম বিপদের মুখে পড়েছে। ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্কে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুটিয়ে নিরাপদ স্থানে সরতে শুরু করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

রিম্বি গ্রামে ধসের তাণ্ডব, বিপন্ন একাধিক বসতবাড়ি

বৃহস্পতিবার পশ্চিম সিকিমের ইয়ুকসোম-তাশিডিং বিধানসভা এলাকার অন্তর্গত রিম্বি গ্রামে নতুন করে এই ধস নামায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পাহাড়ি ঢালে মাটির নড়াচড়া এখনও অব্যাহত রয়েছে। তার ওপর অনবরত বৃষ্টি চলায় যেকোনো মুহূর্তে আরও বড় কোনো বিপর্যয়ের আশঙ্কায় প্রমাদ গুনছেন গ্রামবাসীরা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, গ্রামের বেশ কয়েকজন বাসিন্দার বাড়ি এখন সরাসরি এই ধসের রেড জোনে চলে এসেছে। এর মধ্যে মুকসাম লিম্বু, সুদীপ লিম্বু এবং অশোক রাইয়ের বাসভবন সহ একাধিক পরিবার চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। পাহাড়ি ঢাল বেয়ে নেমে আসা মাটির স্রোত যদি বাড়িগুলিতে আঘাত করে, তবে মুহূর্তেই তা ধূলিসাৎ হয়ে যেতে পারে।

গৃহহীন হওয়ার আশঙ্কায় জিনিসপত্র নিয়ে পলায়ন

পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে অনেকেই অপেক্ষা না করে বাড়ি থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র, নথিপত্র ও গবাদিপশু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেরিয়ে পড়েছেন। নিজস্ব ভিটেমাটি ও সহায়-সম্পত্তির এই অনিশ্চয়তা গ্রাস করেছে গোটা রিম্বি গ্রামকে।

শুধু বসতবাড়িই নয়, ধসের কারণে এলাকার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থাও পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়ার মুখে। পাহাড়ি রাস্তায় কাদা ও বড় বড় পাথরের স্তূপ জমা হওয়ায় যাতায়াত অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

কড়া নজরদারিতে প্রশাসন, সতর্ক বার্তা জারি

ধসের গতিবিধি, বৃষ্টির পরিমাণ এবং গ্রামের দিকে মাটি-পাথরের প্রবাহের ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে। নতুন করে যাতে আর কোনো প্রাণহানি বা বড় ক্ষয়ক্ষতি না ঘটে, তার জন্য স্থানীয়দের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।

প্রশাসনের তরফে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলি এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন পড়লে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়স্থলে চলে যাওয়ার জন্য আগাম প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে। আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে খবর, বর্ষণ অব্যাহত থাকলে আগামী ২৪ ঘণ্টায় পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে।