মোবাইলের নেশা ছেড়ে সোজা ক্যারাটে ম্যাটে! ৯ রাজ্যের খুদে যোদ্ধাদের লড়াইয়ে কাঁপছে কাটোয়া!

মোবাইলের পর্দায় আটকে থাকা তরুণ প্রজন্মকে ভার্চুয়াল দুনিয়া থেকে ফিরিয়ে এনে সবুজ মাঠ ও খেলার দুনিয়ায় ফিরিয়ে দেওয়ার এক অনন্য এবং ঐতিহাসিক উদ্যোগ নেওয়া হলো কাটোয়া শহরে। এই প্রথমবার কাটোয়া শহরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে আয়োজন করা হয়েছে একটি সর্বভারতীয় বা জাতীয় স্তরের ক্যারাটে প্রতিযোগিতা। কাটোয়ার বিখ্যাত সন্ধিক্ষণ লজে আয়োজিত এই প্রেস্টিজিয়াস টুর্নামেন্টে পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের মোট ৯টি আলাদা রাজ্য থেকে ২৫০-রও বেশি প্রতিভাবান প্রতিযোগী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছে। বিভিন্ন বয়স ও ওজন ভিত্তিক বিভাগে প্রতিযোগীরা তাদের অসাধারণ ক্যারাটে দক্ষতা প্রদর্শন করছে। আয়োজকদের জোরালো দাবি, কাটোয়ার মতো একটি মফস্বল শহরে এই মাপের একটি মেগা ন্যাশনাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হওয়া কেবল ক্রীড়াক্ষেত্রেই নয়, বরং সামগ্রিকভাবে শহরের পরিচিতি এবং মর্যাদাকে এক অন্য উচ্চতায় নিয়ে যেতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
এই সুসংগঠিত টুর্নামেন্টের নেপথ্যে রয়েছে ক্রীড়া ভারতী মধ্যবঙ্গ ও কাটোয়া শাখা, ইন্টারন্যাশনাল বুদোকাইকান ক্যারাটে অ্যাসোসিয়েশন এবং পূর্ব বর্ধমান জেলা স্পোর্টস অ্যান্ড ফিজিক্যাল কালচার অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ ও নিবেদিতপ্রাণ প্রয়াস। এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ক্রীড়া ভারতী মধ্যবঙ্গের সম্মানিত সহ-সম্পাদক ডক্টর অনির্বাণ মিশ্র। তিনি ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী সুরে বলেন, আগামী দিনে খেলাধুলার এই পরিসরকে আরও অনেক বড় ও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে সংগঠনের। বিশেষ করে ২০৩৬ সালের অলিম্পিকে ভারতকে সফল আয়োজক হিসেবে আন্তর্জাতিক মঞ্চে তুলে ধরার এক সুদূরপ্রসারী লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী যোগাসন ও কাবাডির মতো খেলাগুলিকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ামঞ্চে আরও বেশি সুপ্রতিষ্ঠিত করার বিষয়েও বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
পূর্ব বর্ধমান জেলা স্পোর্টস অ্যান্ড ফিজিক্যাল কালচার অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক সমর দাস এই সফল আয়োজন প্রসঙ্গে সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কাটোয়ার নামকে বাংলা তথা সমগ্র সর্বভারতীয় স্তরে উজ্জ্বলভাবে তুলে ধরা। কলকাতার মতো মেগাসিটির বাইরেও যে বর্ধমান এবং তারও বাইরে কাটোয়ার মতো একটি মফস্বল শহর এত বড় মাপের জাতীয় ক্যারাটে প্রতিযোগিতা অত্যন্ত সফলভাবে অর্গানাইজ করতে পারে, তা দেখে আমাদের সত্যিই ভীষণ ভালো লাগছে।” অন্যদিকে, ক্রীড়া ভারতীর মধ্যবঙ্গ শাখার সহ-সম্পাদক ডক্টর অনির্বাণ মিশ্র সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন যে বর্তমানে সারা পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই খেলাধুলা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলির প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে এক অভূতপূর্ব জনজোয়ার ও তীব্র উদ্দীপনা লক্ষ করা যাচ্ছে, যা তাঁদের আগামী দিনে আরও বড় ও আকর্ষণীয় সব প্রজেক্ট করার জন্য প্রতিনিয়ত অনুপ্রাণিত করছে।
আয়োজকদের তীব্র বিশ্বাস ও আশা যে, এই ধরনের উচ্চমানের জাতীয় স্তরের প্রতিযোগিতার হাত ধরে কাটোয়া আগামী দিনে বাংলার অন্যতম প্রধান ক্রীড়া সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল হিসেবে গড়ে উঠবে। তবে এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সফল করতে গিয়ে শহরে একটি উন্নত ও আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়ামের তীব্র প্রয়োজনীয়তার কথাও গভীরভাবে অনুভূত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনের পথ প্রশস্ত করবে। উল্লেখ্য, এই জাতীয় ক্যারাটে প্রতিযোগিতার পাশাপাশি একই দিনে কাটোয়ার ঐতিহাসিক গোবিন্দবাগান মাঠে অত্যন্ত রোমাঞ্চকর ১১ দলীয় কাটোয়া মহকুমা ফুটবল লিগের ফাইনাল ম্যাচও অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব মিলিয়ে, একই দিনে জাতীয় স্তরের ক্যারাটে এবং মহকুমা ফুটবল টুর্নামেন্টের সফল আয়োজনের মাধ্যমে কাটোয়ার মাটিতে ক্রীড়াচর্চাকে এক সোনালী উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার কড়া বার্তা দিলেন উদ্যোক্তারা।