‘মোদী ট্রাম্পকে ভয় পান!’—রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের পরই কড়া আক্রমণ রাহুল গান্ধীর

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) দাবি—প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে—এই মন্তব্যের পরই প্রধানমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ শানিয়েছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা ও কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi)। রাহুল অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী ট্রাম্পকে ‘ভয় পান’।

রাহুলের আক্রমণের তালিকা
রাহুল গান্ধী একাধিক অভিযোগের তালিকা দিয়ে তাঁর বক্তব্যকে সমর্থন করেন এবং বলেন, প্রধানমন্ত্রী মোদী ট্রাম্পের চাপের কাছে নতি স্বীকার করছেন। এক্স (X) প্ল্যাটফর্মে রাহুল গান্ধী লেখেন:

“প্রধানমন্ত্রী মোদী ট্রাম্পকে ভয় পান। (প্রধানমন্ত্রী মোদী) ট্রাম্পকে সিদ্ধান্ত নিতে এবং ঘোষণা করতে দিয়েছেন যে ভারত রাশিয়ার তেল কিনবে না। বারবার অপমান সত্ত্বেও অভিনন্দন বার্তা পাঠাচ্ছেন। অর্থমন্ত্রীর আমেরিকা সফর বাতিল করেছেন। শারম এল-শেখ এড়িয়ে গেছেন। অপারেশন সিঁদুর নিয়ে তার বিরোধিতা করছেন না।”

জয়রাম রমেশের প্রশ্ন: ‘গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আউটসোর্স’
অন্যদিকে, প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও প্রধানমন্ত্রীর নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি অভিযোগ করেন যে প্রধানমন্ত্রী ‘গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত আমেরিকাকে আউটসোর্স’ করেছেন।

জয়রাম রমেশ ট্রাম্পের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতিতে মধ্যস্থতা করার বারবার দাবির কথা উল্লেখ করে বলেন: “১০ মে, ২০২৫-এ, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও প্রথম ঘোষণা করেন যে ভারত অপারেশন সিঁদুর বন্ধ করে দিয়েছে। এরপর, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ৫১ বার দাবি করেছেন যে তিনি শুল্ক এবং বাণিজ্যকে চাপের অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করে অপারেশন সিঁদুর বন্ধ করতে হস্তক্ষেপ করেছিলেন। তবুও আমাদের প্রধানমন্ত্রী চুপ ছিলেন।”

ট্রাম্পের দাবি ও বিদেশ মন্ত্রকের অবস্থান
বুধবার (স্থানীয় সময়) ওভাল অফিসে ট্রাম্প বলেন যে প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। তিনি এটিকে মস্কোর উপর বিশ্বব্যাপী চাপ বাড়ানোর প্রচেষ্টায় ‘একটি বড় পদক্ষেপ’ হিসাবে বর্ণনা করেন।

যদিও এর আগে ভারত মস্কো থেকে তেল আমদানিকে সবসময়ই অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অপরিহার্য বলে রক্ষা করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের তরফে বারবার বলা হয়েছে, ভারত নিজের নাগরিকদের স্বার্থে সবচেয়ে সাশ্রয়ী চুক্তি করতে চায়, অন্যের ইঙ্গিতে নয়। অন্যদিকে, ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধবিরতি উভয় দেশের ডিজিএমও-দের মধ্যে সম্মত হয়েছিল এবং এতে অন্য কোনো দেশের কোনো ভূমিকা ছিল না বলেও ভারত জানিয়েছে।