মেয়ে পড়াশোনা করছে লন্ডনে, হঠাৎ ফোন বন্ধ হতে প্রকাশ পেল গায়ে কাঁটা দেওয়া সত্য! পুনের ফ্ল্যাটে উদ্ধার লাশ

পরিবার জানত মেয়ে লন্ডনে এমবিএ পড়তে ব্যস্ত। সেই অনুযায়ী নিয়মিত ফোন ও মেসেজে যোগাযোগও হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই একদিন বন্ধ হয়ে যায় মোবাইল ফোন। মেয়ের খোঁজ নিতে গিয়েই একের পর এক উন্মোচিত হলো গায়ে কাঁটা দেওয়া সত্য। যুক্তরাজ্য থেকে গোপনে দেশে ফিরে পুনের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন ৩৪ বছর বয়সী তরুণী মুগ্ধা দেশমুখ। আর সেখান থেকেই উদ্ধার হলো তাঁর রহস্যজনক মৃতদেহ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের পুনেতে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের বাসিন্দা মুগ্ধা ২০২৫ সালের জুলাই মাসে উচ্চশিক্ষার জন্য যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে পড়াশোনার পাশাপাশি পার্ট-টাইম চাকরিও করতেন তিনি। কিন্তু পরিবারের কাউকে কিছু না জানিয়েই ২০২৬ সালের আগস্ট মাসে তিনি ভারতে ফিরে আসেন। এর আগেই চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তিনি পুনের পিম্পরি চিঞ্চওয়াড় এলাকার ‘লোধা বেলমন্ডো’ আবাসিক কমপ্লেক্সে একটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছিলেন এবং দেশে ফিরে সেখানেই বসবাস শুরু করেন।

কীভাবে ফাঁস হলো গোপন সত্যি?

গত ২৪ অক্টোবর হঠাৎ করেই মুগ্ধার মোবাইল ফোনটি বন্ধ হয়ে যায় এবং পরিবারের সাথে সমস্ত যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। উদ্বিগ্ন বাবা অবিনাশ দেশমুখ ছত্রপতি সম্ভাজিনগর থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত অভিযোগ দায়ের করেন। পাশাপাশি লন্ডনে বসবাসকারী মুগ্ধার এক বন্ধুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ২২ অক্টোবরের পর থেকে মুগ্ধার আর কোনও সন্ধান নেই। লন্ডন পুলিশ তদন্তে নেমে জানতে পারে, আগস্ট মাসের শেষেই মুগ্ধা যুক্তরাজ্য ত্যাগ করেছিলেন।

এরপরই ভারতীয় কর্তৃপক্ষ ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্যের ওপর নজর দিতে শুরু করেন পরিবারের সদস্যরা। অনলাইন ফুড ডেলিভারি অ্যাপের খতিয়ান ও ব্যাঙ্ক ট্রানজ্যাকশন স্ক্যান করতেই দেখা যায়, লন্ডনে নয়—মুগ্ধা আদতে পুনেতেই অবস্থান করছিলেন।

তড়িঘড়ি পুলিশ পুনের সেই ফ্ল্যাটে পৌঁছালে ভেতর থেকে মুগ্ধার মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তিনি কেন পরিবারকে না জানিয়ে দেশে ফিরেছিলেন এবং এই মৃত্যুর পেছনে অন্য কোনও রহস্য লুকিয়ে রয়েছে কি না, তা জানতে তদন্তে নেমেছে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থা।