মিস ইউনিভার্স পাকিস্তানের মুকুট জিতলেন মনোবিজ্ঞানের ছাত্রী মিসবাহ আরশাদ, তাক লাগানো লুকে নজর কাড়লেন তরুণী!

সৌন্দর্য ও বুদ্ধিমত্তার এক অনন্য উদাহরণের সাক্ষী রইল আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ও পেজেন্ট মহল। সদ্য ‘মিস ইউনিভার্স পাকিস্তান ২০২৬’-এর খেতাব জয় করে নিলেন মনোবিজ্ঞানের মেধাবী ছাত্রী ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর মিসবাহ আরশাদ। এই জয়ের সুবাদে আগামী ২৪ নভেম্বর পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ানে অনুষ্ঠিত হতে চলা ৭৫তম মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় পাকিস্তানের প্রতিনিধিত্ব করবেন তিনি।
সৌন্দর্য প্রতিযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে মিসবাহর পরিচিতি বিস্তৃত তাঁর সমাজ সচেতনতা ও বহুমুখী প্রতিভার সুবাদে। নারীশিক্ষা ও পঠনপাঠনের মাধ্যমে মেয়েদের ক্ষমতায়নের পক্ষে বরাবরই সরব থেকেছেন তিনি। চলতি বছরের জুলাই মাসে লাহোরের একটি স্কুল পরিদর্শন করে ছাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এই তরুণী। তাঁর স্পষ্ট মত, নারীশিক্ষা কেবল একটি সামাজিক বিষয় নয়, বরং আগামী দিনের ভবিষ্যতের জন্য এটি সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। আন্তর্জাতিক মঞ্চে এটি তাঁর প্রথম অভিজ্ঞতা নয়; এর আগে ২০২৩ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত ‘মিস ইন্টারন্যাশনাল’ প্রতিযোগিতাতেও পাকিস্তানের হয়ে দেশের পতাকা উঁচিয়ে ধরেছিলেন তিনি। মডেলিং ও কনটেন্ট তৈরির পাশাপাশি ভ্রমণ এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগের ছবি প্রায়শই ফুটে ওঠে তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া পেজে।
এদিনের ফাইনালে মিসবাহকে একটি নজরকাড়া সাদা রঙের এলিগ্যান্ট গাউনে দেখা যায়। ভিয়েতনামী ডিজাইনার নুয়েন তিয়েন ত্রুয়েন এই পোশাকটি ডিজাইন করেছেন, যেখানে নিখুঁত এমব্রয়ডারি করা কর্সেট এবং ফ্লেয়ারড স্কার্ট ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। পাকিস্তানের ঐতিহ্যবাহী মোটিফ এবং সাংস্কৃতিক চেতনা থেকেই এই পোশাকের নকশা অনুপ্রাণিত বলে জানিয়েছেন ডিজাইনার।
নিজের এই অর্জনকে জীবনের অন্যতম বড় মাইলফলক হিসেবে দেখছেন মিসবাহ। ইনস্টাগ্রামে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে তিনি জানান, এই মুকুট কেবল একটি সাফল্যের প্রতীক নয়, এর নেপথ্যে রয়েছে বহু ব্যর্থতা, চ্যালেঞ্জ ও কঠোর পরিশ্রমের দীর্ঘ যাত্রা। তাঁর পরা সাদা গাউনটি আশার প্রতীক এবং পোশাকের রয়্যাল ব্লু ক্রিস্টালগুলো শিক্ষা ও জ্ঞানের পরিচায়ক। খেতাব জেতার চেয়েও এই দীর্ঘ যাত্রার অভিজ্ঞতা ও নতুন শিক্ষাকেই বড় প্রাপ্তি বলে মনে করেন তিনি। এখন দেশবাসীর নজর তাঁর পরবর্তী আন্তর্জাতিক লড়াইয়ের দিকে।