মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন, উনি রেজিস্টার্ড লায়ার’, বহিরাগত ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীকে তীব্র আক্রমণ শুভেন্দুর

ভবানীপুরে ‘বহিরাগত’ ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বারবার ব্যাখ্যা দেওয়া নিয়ে এবার সরাসরি মিথ্যাবাদী বলে কটাক্ষ করলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার রাতে আসানসোলে কালীপুজোর উদ্বোধন করতে এসে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর মানসিক চিকিৎসার প্রয়োজন।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, তিনি রাজ্যের অবাঙালি মানুষকে বহিরাগত বলেননি, বরং তাঁর নিশানা ছিল বিশেষ রাজনৈতিক দলের ঢোকানো বহিরাগতরা। এই প্রসঙ্গে বিরোধী দলনেতা তীব্র আক্রমণ শানান।

‘বড় মিথ্যাবাদী’, চাপেই বক্তব্য বিকৃতের অভিযোগ
শুভেন্দু অধিকারী মুখ্যমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বলেন, “উনি বড় মিথ্যাবাদী। কলকাতা এয়ারপোর্টে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের সামনে উনি বলেছেন, মেয়েদের রাতে না-বেরোতে। উনি বলেছেন, মহিলাদের সুরক্ষা নিজেদেরকেই করতে হবে। যেই চাপে পড়েছেন, হাসিমারাতে নেমে বলছেন, ‘আপনারা আমার বক্তব্যকে বিকৃত করেছেন।’ দুটো বক্তব্য পাশাপাশি রেখে আপনারা অনেকে দেখিয়েছেন, আমিও সোশাল মিডিয়াতে পোস্ট করেছি।”

সরাসরি তোপ দেগে শুভেন্দু আরও বলেন, “এই মুখ্যমন্ত্রী একজন ‘রেজিস্টার্ড লায়ার’। একটাও সত্যি কথা বলে না, মিথ্যা কথা বলে। কলকাতায় জল জমলে বলে ফারাক্কা থেকে জল এসেছে, পাহাড়ে গিয়ে বলে ম্যানগ্রোভ লাগাতে হবে, কখনও বলে ভুটানের বাঁধ ভাঙব। এই মুখ্যমন্ত্রী না জানে ভূগোল। মানসিক চিকিৎসার খুব প্রয়োজন রয়েছে।”

ভবানীপুরে ‘হার নিশ্চিত’, অঙ্ক কষে দিলেন শুভেন্দু
ভবানীপুরের ভোটারদের নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর মন্তব্যের সমালোচনা করে শুভেন্দু বলেন, “ভবানীপুরে উনি ভারতবাসীদের অপমান করেছেন। ভারতবর্ষের গুজরাতি হোক, মারাঠি হোক, শিখ হোক, বিহারী হোক… তারা সকলেই ভারতীয়।”

শুভেন্দুর আরও দাবি, মুখ্যমন্ত্রী কোনো একটা শব্দ বাংলাদেশের মুসলমান অনুপ্রবেশকারী আর রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বলেন না। তিনি হিন্দিভাষী হিন্দু, বাংলাভাষী হিন্দুদের মধ্যে ঝগড়া লাগানোর চেষ্টা করেন। তিনি অঙ্ক কষে দেখিয়ে দেন কেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মিথ্যা বলছেন:

“উনি পরে হিসাব করে দেখেছেন, ভবানীপুর বিধানসভায় গুজরাতি, মারাঠি, শিখ, সিন্দ্রী, জৈন, বিহারী এবং উৎকল (উড়িয়া) মিলে প্রায় ৯০ হাজার ভোটার থাকে। তাই হারবে তো নিশ্চিত। অঙ্কটা কষে দিয়েছেন কেউ। করে বলেছেন একটু ড্যামেজ রিপেয়ার করুন। তাই ড্যামেজ রিপেয়ার করতে গিয়ে একেবারে কাঁচা, জলজ্যান্ত মিথ্যার আশ্রয় নিয়েছেন, যেটা উনি প্রত্যেক দিনই বলে থাকেন।”

রাহুল গান্ধী নিয়েও তীব্র কটাক্ষ
নভেম্বরের শেষে বা ডিসেম্বর মাসে রাজ্যে রাহুল গান্ধীর আসার খবরে জোট শক্তিশালী হবে কিনা— সাংবাদিকদের এই প্রশ্নে শুভেন্দু বলেন, “ওই পার্টির কোনও অস্তিত্বই নেই। ওই পার্টি অধীর চৌধুরীকে প্রদেশ সভাপতি থেকে সরিয়েছে, যাতে কংগ্রেস এখানে তৃণমূলের লেজুড় হয়ে থাকে। কংগ্রেস দলটাকে মমতাকে লিজ দিয়ে দিয়েছে কংগ্রেস।”

তিনি আরও স্পষ্ট করেন, “লড়াই বিজেপির সঙ্গে তৃণমূলের। লড়াই বিজেপির সঙ্গে বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারীদের। লড়াই একদিকে দুর্নীতিগ্রস্ত চোর, একদিকে রাষ্ট্রবাদী ভারতীয় জনতা পার্টির। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে জাতিয়তাবাদীদের সঙ্গে পাকিস্তানপ্রেমীদের লড়াই হবে।”