মাদার টেরেসার প্রয়াণ দিবসে আবেগঘন মুহূর্ত! মাদার হাউসে গিয়ে ঠিক কী বার্তা দিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?

৫ সেপ্টেম্বর, শনিবার মাদার টেরেসার প্রয়াণ দিবস। আর এই বিশেষ দিনেই কলকাতার এন্টালির আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডের মাদার হাউসে গিয়ে মাদার টেরেসার সমাধিতে শ্রদ্ধা জানালেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন সকালে মাদার হাউসে পৌঁছে সমাধিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করার পাশাপাশি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে প্রার্থনাতেও অংশ নেন তিনি। এরপর মিশনারিজ অফ চ্যারিটির সুপিরিয়র জেনারেল সিস্টার মেরি জোসেফের সঙ্গেও দেখা করেন তৃণমূল নেত্রী।

২৯ বছর পরেও অমলিন মানবসেবার আদর্শ

১৯৯৭ সালের ৫ সেপ্টেম্বর কলকাতাতেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন মাদার টেরেসা। তাঁর প্রয়াণের ২৯ বছর পরেও মানবসেবার সেই আদর্শ যে সাধারণ মানুষের মনে একইভাবে জায়গা করে রয়েছে, এদিনের মাদার হাউসের পরিবেশ তারই প্রমাণ দিল। মাদারের সমাধিতে ফুল দিতে এদিন সকাল থেকেই দেশ-বিদেশের বহু মানুষ ভিড় জমান। পাশাপাশি বিশেষ প্রার্থনাতেও অংশ নেন অনেকে।

মাদারকে স্মরণ করে মমতার আবেগঘন বার্তা

মাদার টেরেসার জীবনকে স্মরণ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত সমাজের সবচেয়ে অসহায়, দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি। কোনো প্রত্যাশা ছাড়াই মানুষের সেবা করার যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত মাদার রেখে গিয়েছেন, তা আজও সারা বিশ্বের কাছে এক বিরাট অনুপ্রেরণা। বর্তমান সমাজের বিভাজনের আবহের মধ্যে মাদারের ভালোবাসা, সহমর্মিতা ও মানবিকতার বার্তাকে আরও বেশি করে মনে রাখার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, মানুষের প্রতি ভালোবাসা, পারস্পরিক সম্মান এবং প্রত্যেকের মর্যাদা রক্ষা—এই মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করেই একটি সমান ও শান্তিপূর্ণ ভারত গড়ে উঠতে পারে।

কলকাতার সঙ্গে মাদারের অবিচ্ছেদ্য সম্পর্ক

কলকাতার সঙ্গে মাদার টেরেসার নাম ও কাজ যেন একে অপরের পরিপূরক। তাঁর প্রতিষ্ঠিত মিশনারিজ অফ চ্যারিটির সদর দফতর মাদার হাউস আজও মানবসেবার অন্যতম প্রধান ঠিকানা। ৫ সেপ্টেম্বর তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে প্রতি বছরই সেখানে সাধারণ মানুষের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়। আজও কেউ ফুল নিয়ে, কেউ বা নীরব প্রার্থনায় স্মরণ করেছেন সেই মহীয়সী নারীকে, যাঁর কাছে মানবসেবাই ছিল জীবনের সবচেয়ে বড় ধর্ম।