মাঝ আকাশে রিয়াদের দিকে ধেয়ে আসা মিসাইল গুঁড়িয়ে দিল সেনা! হুতি হামলায় বড়ো বিপত্তি এড়ানো গেল কি?

মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে ফের চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ এবং কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল শহর ধাহরানে একসাথে জোরালো হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। তবে সৌদি সেনার তৎপরতায় বড়ো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে। আরব জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রিয়াদের আকাশসীমার দিকে ধেয়ে আসা দুটি শক্তিশালী ক্রুজ মিসাইল মাঝ আকাশেই সফলভাবে ধ্বংস করে দিয়েছে সেনা।

সিভিল ডিফেন্সের মুখপাত্রের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাঝ আকাশে মিসাইলটি ধ্বংস হওয়ার পর এর মারাত্মক ধ্বংসাবশেষ বা খণ্ডাংশ ছিটকে নিচে পড়ে। এর জেরে দুই নারী, এক পুরুষ এবং একটি শিশুসহ মোট চারজন সাধারণ নাগরিক আহত হয়েছেন। পাশাপাশি, হুতি বিদ্রোহীদের ছোঁড়া মিসাইলের টুকরো আছড়ে পড়ে প্রায় ১৫টি বসতবাড়ির ওপর, যার ফলে বাড়িগুলির আংশিক ক্ষতি হয়েছে। হামলার পরপরই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় প্রশাসন ও জরুরি পরিষেবা বিভাগ অবিলম্বে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

শুধু রিয়াদই নয়, আরব জোটের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তুর্কি আল-মালকি জানিয়েছেন যে, রিয়াদের পার্শ্ববর্তী আল খার্জ এলাকার দিকে এগিয়ে আসা আরও একটি ক্রুজ মিসাইল মাঝ আকাশেই প্রতিহত করা হয়েছে। এর আগে গত মঙ্গলবার রাতে এক ভয়াবহ যৌথ হামলায় রিয়াদ ও দেশের দক্ষিণাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোঁড়া মোট ছ’টি ড্রোন এবং রিয়াদের অভিমুখে ধেয়ে আসা চারটি ক্রুজ মিসাইল সফলভাবে আটকে দিয়ে ধূলিসাৎ করে দেয় আরব জোটের বাহিনী।

অন্যদিকে, দেশের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ধাহরান শহরে আঘাত হেনেছে অপর একটি আক্রমণ। জ্বালানি মন্ত্রকের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে, মঙ্গলবার রাতের ওই ধারাবাহিক হামলায় ধাহরান শহরে অবস্থিত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ জ্বালানি প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো কোম্পানির একটি প্রশাসনিক ভবন সরাসরি লক্ষ্যবস্তু হয়। এই আকস্মিক হামলার জেরে ভবনটির নির্দিষ্ট অংশে সামান্য আগুন ধরে যায়। তবে ঘটনার আকস্মিকতা সামলে দ্রুত তৎপর হন সংশ্লিষ্ট সরকারি আধিকারিকরা। দমকল ও নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনেন। স্বস্তির বিষয় হলো, আরামকো ভবনে এই হামলার ঘটনায় হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। মধ্যপ্রাচ্যের এই নতুন সংঘাতের জেরে আন্তর্জাতিক তেল বাজারে এবং গোটা অঞ্চলে নতুন করে আতঙ্ক দানা বাঁধতে শুরু করেছে।