মাঝরাস্তায় ট্রাক আটকে নথি ছিনতাইয়ের চেষ্টা! কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক ঋতব্রত, দিল্লিতে চরম উত্তেজনা!

সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের আসল মালিকানা এবং প্রতীক কার হাতে থাকবে—এই প্রশ্নে কালীঘাট ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরের আইনি লড়াই এবার দিল্লির নির্বাচন সদনে পৌঁছেছে। কিন্তু আগামী ৩০ অক্টোবর জাতীয় নির্বাচন কমিশনের গুরুত্বপূর্ণ শুনানির আগেই ঘটে গেল এক নজিরবিহীন নাটকীয় ঘটনা। নির্বাচন কমিশনে নথি পাঠানোর পথে মাঝরাস্তায় নথিবোঝাই ট্রাক আটকে কাগজপত্র ছিনতাইয়ের চেষ্টা করা হয়েছে বলে সরাসরি কালীঘাট শিবিরের বিরুদ্ধে মারাত্মক অভিযোগ তুললেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য, জাতীয় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী ২৬ অক্টোবরের মধ্যেই উভয়পক্ষকে প্রয়োজনীয় তথ্য ও হলফনামা জমা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে ঋতব্রত জানান, তাঁর গোষ্ঠীর সমর্থকরা ২৪ অক্টোবর সকালে সমস্ত নথি নিয়ে সড়কপথে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। কিন্তু ভোররাতে আচমকাই সেই ট্রাকের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার এবং নথি লুটের অপচেষ্টা চালানো হয়। তবে কর্মীদের সাহসিকতার কারণে সেই হামলা ভেস্তে যায় বলে দাবি করেন তিনি।

ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে সরাসরি সোচ্চার হয়ে লেখেন, “২৪ তারিখ সকালে আমাদের কর্মীরা সড়কপথে রওনা দেন। আর অন্যদিকে ২৫ তারিখ সন্ধ্যায় বিশেষ চার্টার্ড বিমানে কালীঘাটের হলফনামা দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চার্টার্ড বিমান সংস্কৃতির বিরুদ্ধে এই লড়াই সাধারণ মানুষের ও তৃণমূল স্তরের আত্মপ্রত্যয়ের। সর্বক্ষেত্রে সংগঠিত লুটের এই প্রচেষ্টায় স্বৈরাচারীরা কোনভাবেই সফল হবে না।” তিনি এই বিষয়ে দিল্লি পুলিশ, হরিয়ানা পুলিশ ও নির্বাচন কমিশনকে ট্যাগ করে আইনি পদক্ষেপ ও সুরক্ষার দাবি জানিয়েছেন।

অন্যদিকে, তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে এই টানাপোড়েনের মধ্যে কটাক্ষ ছুড়ে দিয়েছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি মন্তব্য করেন, “সবটাই এখন নির্বাচন কমিশনের এক্তিয়ারভুক্ত। সেখানে গিয়ে সবাই কথা বলুন।” সব মিলিয়ে, ৩০ অক্টোবরের শুনানির ঠিক আগে এই নথি ছিনতাইয়ের বিস্ফোরক অভিযোগ রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে আগুনে ঘি ঢালল।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty