মাঝরাতে কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে হাত-পা বাঁধল দুষ্কৃতীরা! ফরিদাবাদে ১.৪ কোটি টাকার ডাকাতি কাণ্ডে গ্রেফতার ৪

হরিয়ানার ফরিদাবাদে বন্দুকের মুখে পুরো পরিবারকে জিম্মি করে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকা (১.৪ কোটি টাকা) ডাকাতির চাঞ্চল্যকর ঘটনায় বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। গভীর রাতে মুখ ঢাকা সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা বাড়িতে ঢুকে ভয় দেখিয়ে এই তাণ্ডব চালিয়েছিল। ফরিদাবাদ পুলিশ সূত্রে খবর, সেক্টর ৩০-এর ক্রাইম ব্রাঞ্চের তৎপরতায় এই ডাকাতি কাণ্ডে জড়িত চার অভিযুক্তকে ইতিমধ্যেই গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ওই পরিবারের জমি বিক্রির বিপুল অঙ্কের নগদ টাকার খবর পেয়েই করা হয়েছিল এই ছক কষা মাস্টারপ্ল্যান।

যেভাবে ছকা হয়েছিল ডাকাতির ছক: ক্রাইম-২-এর সহকারী পুলিশ কমিশনার (ACP) বরুণ কুমার দাহিয়া জানান, ঘটনার মূল খলনায়ক গ্রামেরই বাসিন্দা সাহুন খান। সে জানত যে অভিযোগকারী আব্দুল কাদিম সম্প্রতি জমি বিক্রি করে বিপুল টাকা নতুন বাড়িতে এনে রেখেছেন। কোটি টাকার এই গোপন খবর সে সুযোগ বুঝে তার পরিচিত পুরোনো অপরাধী লিয়াকতকে জানিয়ে দেয় এবং পুরো ডাকাতির ছক সাজাতে বলে।

মাঝরাতে আরটিগা গাড়ি ও বাইকে রেকি: পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২৫ ও ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যবর্তী রাতে একটি আরটিগা গাড়িতে চেপে সাতজন দুষ্কৃতী ফতেহপুর টাগা গ্রামে পৌঁছায়। এর আগে মোটরসাইকেলে করে আসা দু’জন দুষ্কৃতীকে দিয়ে বাড়ি রেকি এবং পালানোর পথ চিহ্নিত করে রাখা হয়েছিল। রাত আনুমানিক ২টো ১০ মিনিট নাগাদ মুখ ঢাকা অবস্থায় চার-পাঁচজন সশস্ত্র যুবক লোহাড় রড দিয়ে নতুন বাড়ির ট্রাঙ্ক ও ঘরের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকে।

পিস্তল ঠেকিয়ে তাণ্ডব: অভিযোগকারী আব্দুল কাদিম জানান, গভীর রাতে ঘুমের ঘোরে আচমকাই কপালে পিস্তলের নল অনুভব করেন তিনি। দুষ্কৃতীরা কপালে পিস্তল ঠেকিয়ে চাবি চায় এবং সঙ্গে সঙ্গে তাঁর হাত, পা ও মুখ কষে বেঁধে ফেলে। এরপর লোহার রড দিয়ে ট্রাঙ্ক ভেঙে কোটি টাকার ওপরে নগদ নিয়ে চম্পট দেয় ডাকাত দলটি।

পুলিশের জালে দুষ্কৃতীরা: ঘটনার পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগ দায়ের হওয়ার পরেই জোরকদমে তদন্তে নামে পুলিশ। তদন্তকারী দল ফরিদাবাদ থেকে মূল সোর্স সাহুন খান (৩৮)-কে গ্রেফতার করে। পরবর্তীতে উত্তর প্রদেশের মোরাদাবাদ জেলার সামথালা এলাকায় ঝটিকা অভিযান চালিয়ে আরও তিন অভিযুক্ত—হায়দার আলী ওরফে ইমামউদ্দিন (২৮), মোহাম্মদ আরিফ (৩২) এবং মোসিব আলম (৩০)-কে গ্রেফতার করে। আদালত চারজনকেই চার দিনের পুলিশি রিমান্ডে পাঠিয়েছে। বাকি পলাতক দুষ্কৃতী ও লুঠ হওয়া টাকা উদ্ধারে বিভিন্ন জায়গায় তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।