মাঝআকাশে বিমান অপহরণের ভুয়ো আতঙ্ক! জয়পুরে জরুরি অবতরণ এয়ার ইন্ডিয়ার বিমানের

মাঝআকাশে আচমকা বিমান অপহরণের সংকেত এবং তার জেরে তৈরি হওয়া চরম উত্তেজনায় হুলস্থুল কাণ্ড বিমান পরিবহন মহলে। ফ্র্যাঙ্কফুর্ট থেকে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার (Air India) একটি উড়ানকে তড়িঘড়ি রুট পরিবর্তন করে জয়পুর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়েছে। যদিও বিমানটি সম্পূর্ণ নিরাপদেই অবতরণ করেছে, তবুও মাত্র কয়েক সেকেন্ডের একটি সাংকেতিক বার্তা ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র রহস্য ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি যখন আকাশে উড়ছিল, ঠিক সেই সময়ে আমদাবাদ এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের (এটিসি) র‍্যাডারে একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বার্তা ধরা পড়ে। বিমানটির পাইলট মাত্র কয়েক সেকেন্ডের জন্য সম্প্রচার করেছিলেন ‘স্কোয়াক-৭৫০০’ (Squawk 7500) কোড। বিমান চালনা ও নিরাপত্তার পরিভাষায় এই বিশেষ কোডের অর্থ অত্যন্ত গুরুতর। মাঝআকাশে বিমান অপহরণ হলে বা বিমানের নিয়ন্ত্রণ বেআইনিভাবে ছিনিয়ে নেওয়া হলে পাইলটরা সাধারণত এই ইমার্জেন্সি কোড ব্যবহার করে থাকেন। আমদাবাদ এটিসিতে এই বিপদের সংকেত পৌঁছতেই মুহূর্তের মধ্যে নড়েচড়ে বসে দেশের শীর্ষ নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।

বিন্দুমাত্র ঝুঁকি না নিয়ে দিল্লিগামী এয়ার ইন্ডিয়ার AI-2030 উড়ানটির রুট তাৎক্ষণিকভাবে বদলে ফেলা হয় এবং বিমানটিকে নিকটবর্তী জয়পুর বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে জয়পুরের রানওয়ে স্পর্শ করে বিমানটি। সকাল ৯টা ৪৫ মিনিট নাগাদ বিমানটিকে সরাসরি নিয়ে যাওয়া হয় বিমানবন্দরের সুরক্ষিত ‘আইসোলেশন বে’-তে।

সাধারণত নিরাপত্তা সংক্রান্ত যে কোনো চরম জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলেই বিমানগুলিকে টার্মিনাল থেকে দূরে এই আইসোলেশন বে-তে রাখা হয়, যাতে অন্য কোনো ক্ষতি না হয়। জয়পুর বিমানবন্দরে অবতরণের পর থেকেই বিমানটিকে ঘিরে ফেলেন নিরাপত্তারক্ষী ও কমান্ডোরা। চলছে পুঙ্খানুপুঙ্খ চিরুনি তল্লাশি। তবে ঠিক কী কারণে পাইলট ওই কোড পাঠিয়েছিলেন, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা কাটেনি। এটি কি সত্যিই কোনো নিরাপত্তাজনিত হুমকি ছিল, নাকি নিছকই কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি বা ভুলবশত বোতাম টেপার ফল, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত এয়ার ইন্ডিয়া বা সরকারি সূত্রের তরফে কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। গোটা ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।