‘মাছে-ভাতে বাঙালির উৎসবে কাটাছেঁড়া কেন?’ বাগেশ্বর ধামের ফতোয়ার বিরুদ্ধে মুখ খুললেন নন্দিনী ভৌমিক

দুর্গাপুজো মানেই বাঙালির আবেগ, আনন্দ আর প্রাণের উৎসব। কিন্তু রামকৃষ্ণ-বিবেকানন্দের পদধূলিধন্য বাংলায় এসে মধ্যপ্রদেশের বাগেশ্বরধামের ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী যে মন্তব্য করেছেন, তা নিয়ে এখন গোটা রাজ্যজুড়ে চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক দানা বেঁধেছে। হাওড়ার লিলুয়ায় ‘হনুমান কথা’র আসরে এসে ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী দাবি করেন, “দুর্গাপুজোর সময়ে যাঁরা আমিষ খান, তাঁরা ভণ্ড।” শুধু তাই নয়, পুজো প্যান্ডেলের পিছনে নোংরা খাবার তৈরির মতো আপত্তিকর ও বিতর্কিত মন্তব্যও করেন তিনি। আর এই মন্তব্যের পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে, যুগ যুগ ধরে নিজস্ব রীতি-রেওয়াজ ও সংস্কৃতি মেনে চলা বাঙালিকে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে পাঠ দেওয়ার ধীরেন্দ্রকৃষ্ণ শাস্ত্রী আসলে কে?

বাঙালির এই প্রাণের উৎসবে ভিনরাজ্যের এক ধর্মগুরুর এহেন ফতোয়াকে মেনে নিতে পারছেন না সচেতন নাগরিকরা। এই প্রেক্ষাপটে অত্যন্ত জোরালোভাবে মুখ খুলেছেন রাজ্যের বিশিষ্ট পুরোহিত নন্দিনী ভৌমিক। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, “এখনও আমরা শুনি যে অনেক বাড়ির পুজোতে এবং কিছু কিছু বারোয়ারি পুজোতেও, আর্থিক কারণে প্রতিদিন সম্ভব না হলেও, অন্তত একদিন মায়ের ভোগে মাছ দেওয়া হয়।” তাঁর মতে, বাঙালি মাত্রই বিশ্বাস করে যে মা দুর্গা তাঁর চার সন্তানকে নিয়ে বাপের বাড়িতে আসেন। আর মায়ের সেই বাপের বাড়িতে আসার আনন্দকে সেলিব্রেট করতে গেলে মাছ-ভাতের বাঙালি সংস্কৃতিকে অস্বীকার করার কোনো অবকাশই নেই।

এদিকে বাগেশ্বরবাবার এই সফর এবং তাঁর বিতর্কিত মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও চাপানউতোর শুরু হয়েছে। একদিকে যখন ধীরেন্দ্র শাস্ত্রীর কর্মসূচিতে রাজ্য বিজেপির শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতি এবং খোদ রাজ্য অতিথি নিবাস ‘সৌজন্য’-এ তাঁর সংবর্ধনা ও মন্ত্রীদের নিরামিষ ভোজনের ছবি সামনে এসেছে, তখন অন্যদিকে বাংলার সনাতন সংস্কৃতি ও খাদ্যাভ্যাসের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন বিরোধীরা ও বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবীরা। পুজোয় আমিষ বা নিরামিষ ভক্ষণের মতো একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়ে ভিনরাজ্যের কোনো সন্তের সার্টিফিকেট নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখছে না আপামর বাঙালি সমাজ। বাংলার হাজার বছরের শবরোৎসব, বলিদানের ঐতিহ্য এবং মাছে-ভাতে বাঙালির সনাতন আচার-অনুষ্ঠানকে আক্রমণ করার তীব্র নিন্দা করে বিভিন্ন মহল থেকে ক্ষোভ উগরে দেওয়া হচ্ছে।

Riya Chakrabarty
  • Riya Chakrabarty