তিস্তা বিপর্যয়ে ক্ষতিপূরণ মেলেনি! ক্ষোভের মাঝেই কালিম্পংয়ে তলব মুখ্যমন্ত্রীর, স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে খুশির হাওয়া ক্ষতিগ্রস্তদের মনে

২০২৩ সালের অক্টোবর মাসে ভয়াবহ তিস্তা বিপর্যয়ের পর দীর্ঘ সময় কেটে গেলেও বহু পরিবার এখনও সরকারি আর্থিক সহায়তা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন বলে অভিযোগ। কেউ বাধ্য হয়ে দিন কাটাচ্ছেন ভাড়াবাড়িতে, আবার কেউ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিনযাপন করছেন। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে কিছু পরিবারকে ৭৫ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হলেও বহু প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ এখনও কোনও সাহায্য পাননি। দীর্ঘ এই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার সেই সমস্ত বঞ্চনার শিকার পরিবারগুলিকে কালিম্পংয়ের প্রশাসনিক বৈঠকে তলব করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি তাদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হবে বলে জানা গেছে। এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির মধ্যে স্বস্তির নিঃশ্বাস ও খুশির হাওয়া দেখা দিয়েছে। কালিম্পংয়ের প্রশাসনিক কর্মসূচি শেষ করেই শিলিগুড়ির উত্তরকন্যায় এক উচ্চপর্যায় বৈঠকে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। উত্তরবঙ্গ জুড়ে উন্নয়নমূলক প্রকল্পগুলির বর্তমান অবস্থা এবং জেলা প্রশাসনের কাজের সামগ্রিক খতিয়ান নিতে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। মালদা থেকে শুরু করে কোচবিহার—উত্তরবঙ্গের প্রতিটি জেলার কাজের ‘রিপোর্ট কার্ড’ খুঁটিয়ে দেখবেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ির জেলাশাসকরা সশরীরে উপস্থিত থাকবেন এবং বাকি জেলাগুলির প্রশাসনিক প্রধানরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন। মূলত কোন জেলায় প্রকল্পের কাজ কতদূর এগিয়েছে এবং কোথায় কাজ থমকে রয়েছে, তা নিয়ে প্রশাসনিক স্তরে কড়া পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি, আসন্ন বর্ষা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রতিটি জেলার প্রস্তুতি কতটা মজবুত, তা নিয়েও জেলা প্রশাসনের কাছ থেকে সুনির্দিষ্ট রিপোর্ট তলব করা হবে। বিশেষ করে মালদার গঙ্গা ভাঙন ও ভূতনি এলাকার পরিস্থিতি, ডুয়ার্সের লাগাতার ভারী বৃষ্টি এবং নদী সংলগ্ন এলাকাগুলির বর্তমান সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বিশেষ নজর থাকতে পারে। বিপর্যয় মোকাবিলায় উদ্ধার ও ত্রাণকাজে পরিকাঠামোগত কোনও ঘাটতি রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী।