মহিলাদের জন্য বিশেষ সরকারি প্রকল্প থেকে বিনা গ্যারান্টির মুদ্রা লোন, এক ক্লিকেই জানুন সমস্ত আপডেট

সরকারি প্রকল্পের সুবিধা নিতে গিয়ে অনেকেই সঠিক তথ্যের অভাবে সমস্যায় পড়েন। তবে এখনকার দিনে হাতে একটা স্মার্টফোন থাকলে ঘরে বসেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সেরে ফেলা যায়। আজ আমরা প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনা, পিএম কিষানের কিস্তির তারিখ, মহিলাদের জন্য আর্থিক সহায়তা প্রকল্প এবং ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট তৈরির মতো বেশ কিছু জরুরি বিষয়ে সরাসরি কাজের কথা জানব।

গ্যারান্টি ছাড়াই ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত মুদ্রা লোন ব্যবসা শুরু করতে বা ব্যবসাকে আরও বড় করতে চাইলে টাকার চিন্তা আর বাধা হবে না। প্রধানমন্ত্রী মুদ্রা যোজনার আওতায় সরকার কোনো গ্যারান্টি ছাড়াই লোন দিচ্ছে। সম্প্রতি এই লোনের সর্বোচ্চ সীমা বাড়িয়ে ২০ লাখ টাকা করা হয়েছে। এই লোনের তিনটি ভাগ রয়েছে শিশু, কিশোর এবং তরুণ। আপনার ব্যবসার ধরন এবং মূলধনের প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে আপনি যেকোনো একটির জন্য আবেদন করতে পারেন।

কীভাবে আবেদন করবেন তার পদ্ধতিটি বেশ সহজ। প্রথমে আপনার ব্যবসার একটি সঠিক পরিকল্পনা বা প্রজেক্ট রিপোর্ট তৈরি করুন। এরপর প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যেমন আধার কার্ড, প্যান কার্ড এবং ব্যবসার রেজিস্ট্রেশনের প্রমাণপত্র গুছিয়ে নিন। আপনি আপনার নিকটবর্তী যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি ব্যাঙ্কে গিয়ে মুদ্রা লোনের ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে পারেন। এছাড়া সরকারের উদ্যম মিত্র পোর্টালের মাধ্যমে অনলাইনেও খুব সহজে এই লোনের জন্য আবেদন করা সম্ভব।

পিএম কিষান সম্মান নিধির পরবর্তী কিস্তি কৃষকদের জন্য দারুণ খবর। পিএম কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের আওতায় বছরে ৬ হাজার টাকা সরাসরি কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হয়। খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের পরবর্তী কিস্তির টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে ঢুকতে চলেছে। তবে টাকা পাওয়ার জন্য অবশ্যই আপনার ই-কেওয়াইসি সম্পূর্ণ করা থাকতে হবে। স্মার্টফোন থেকে পিএম কিষান পোর্টালে গিয়ে আপনি নিজের বেনিফিশিয়ারি স্ট্যাটাস সহজেই চেক করে নিতে পারবেন।

মহিলাদের জন্য রাজ্যের আর্থিক সহায়তা প্রকল্প মহিলাদের স্বনির্ভর করতে এবং তাঁদের হাতে সরাসরি টাকা পৌঁছে দিতে বিভিন্ন রাজ্য সরকার একাধিক আর্থিক সহায়তা প্রকল্প চালাচ্ছে। এই প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে মহিলারা প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের টাকা পাচ্ছেন। এই ধরনের উদ্যোগ মহিলাদের দৈনন্দিন খরচ সামলাতে এবং ছোটখাটো সঞ্চয় করতে দারুণ সাহায্য করছে। আপনার রাজ্যের সংশ্লিষ্ট পঞ্চায়েত, বিডিও অফিস বা পুরসভায় খোঁজ নিলে এই প্রকল্পগুলোর ফর্ম এবং নিয়মকানুন সহজেই জানতে পারবেন।

স্মার্টফোনেই ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট পেনশনভোগীদের জন্য প্রতি বছর লাইফ সার্টিফিকেট জমা দেওয়া একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কাজ। তবে এর জন্য এখন আর ব্যাঙ্কের লম্বা লাইনে দাঁড়ানোর দরকার নেই। ভারত সরকার এমন একটি সুবিধা এনেছে যার মাধ্যমে আপনি নিজের স্মার্টফোন ব্যবহার করেই ডিজিটাল লাইফ সার্টিফিকেট তৈরি করতে পারবেন। এর জন্য গুগল প্লে স্টোর থেকে ‘জীবন প্রমাণ’ অ্যাপটি ডাউনলোড করতে হবে। আধার নম্বর এবং ফেস রিডিং বা বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশনের মাধ্যমে কয়েক মিনিটের মধ্যেই আপনার লাইফ সার্টিফিকেট তৈরি হয়ে ব্যাঙ্কে জমা হয়ে যাবে।

সঠিক তথ্য জেনে রাখলে সরকারি সুবিধা পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। দরকার শুধু একটু সচেতনতার। আশা করি এই প্রতিবেদনটি আপনার কাজে লাগবে।