মহাভারতের রচয়িতার ভিটেতে ১১২ বছরের বলিদানের ঐতিহ্য! জানুন সিঙ্গির ভট্টাচার্য বাড়ির পুজোর অজানা ইতিহাস

পূর্ব বর্ধমান জেলার কাটোয়া ২ নম্বর ব্লকের অন্তর্গত ঐতিহ্যবাহী সিঙ্গি গ্রাম। জেলার মানুষ এই গ্রামকে একডাকে চেনেন মহাকবি কাশীরাম দাসের জন্মস্থান হিসেবে, যিনি বাংলায় মহাভারত রচনা করে অমর হয়ে রয়েছেন। তবে শুধু সাহিত্য নয়, শারদোৎসবেও এই গ্রামের এক বিশেষ ঐতিহ্য ও রাজকীয় আভিজাত্য রয়েছে। সিঙ্গি গ্রামের ঐতিহাসিক ভট্টাচার্য পরিবারের দুর্গাপুজো এ বছর ১১৩ বছরে পা দিল।
গ্রামের একাধিক পারিবারিক দুর্গোৎসবের মধ্যে ভট্টাচার্য বাড়ির পুজো মানুষের প্রধান আকর্ষণ, যার অন্যতম কারণ এর দীর্ঘদিনের বলি প্রথা। পারিবারিক নিয়ম মেনে আজও সপ্তমীতে জোড়া পাঁঠাবলি দেওয়া হয়—একটি মা দুর্গার মণ্ডপে এবং অপরটি পার্শ্ববর্তী প্রাচীন মনসা মন্দিরে। এরপর অষ্টমী ও নবমী তিথিতেও নিষ্ঠার সঙ্গে বলিদান উৎসব চলে। বিশেষ করে মহাঅষ্টমীর সন্ধিপুজো দেখতে এখানে গ্রামবাসীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
পাশাপাশি সিঙ্গি গ্রামের অন্যতম প্রধান প্রাচীন উৎসব হলো ‘মঠের বাড়ির পুজো’, যা প্রায় ৩৫০ বছরেরও বেশি সময় ধরে জাঁকজমকভাবে উদযাপিত হয়ে আসছে। জনশ্রুতি রয়েছে, বর্ধমান রাজবাড়ির বিশিষ্ট কুলপুরোহিত তথা জ্যোতিষশাস্ত্রের মহাপণ্ডিত গণেশ বিশারদের হাত ধরে এই পুজোর সূচনা। রাজপরিবারের অকৃত্রিম ভক্তি লাভ করলেও জীবনের শেষভাগে তিনি নিজের জন্মভূমি সিঙ্গিতে ফিরে আসেন এবং একটি মন্দির প্রতিষ্ঠা করে পুজো শুরু করেন, যা পরবর্তীতে ‘মঠের বাড়ির পুজো’ নামে পরিচিতি লাভ করে। বোধনবমীর বোধন থেকে শুরু করে নবপত্রিকা স্নান ও শাস্ত্রীয় বিধিসম্মত তর্পণ—সবকিছুই রাজকীয় নিষ্ঠার সঙ্গে আজও উভয় পরিবারে পালিত হয়ে আসছে।