মহাজাগতিক ধাক্কা আসছে সাধারণ মানুষের পকেটে! সুদের হার বাড়িয়ে উৎসবের আনন্দ ফিকে করতে পারে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক?

রিজার্ভ ব্যাঙ্কের মনিটারি পলিসি কমিটির তিন দিনের বৈঠক গত সোমবার, ৫ অক্টোবর শুরু হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের জোরালো অনুমান, দীর্ঘ বিরতির পর এবার রেপো রেট ০.২৫ শতাংশ বাড়াতে পারে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। এমনটা সত্যি হলে, ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারির পর এটিই হবে প্রথম রেপো রেট বৃদ্ধি, যার ফলে রেপো রেট ৫.২৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫.৫০ শতাংশে পৌঁছাবে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্র আগামী ৭ অক্টোবর এই বৈঠকে গৃহীত সিদ্ধান্তের পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ প্রকাশ করবেন। এর আগে ২০২৫ সালে চার দফায় মোট ১.২৫ শতাংশ রেপো রেট কমানো হয়েছিল, যার জেরে সুদের হার ৬.৫০ শতাংশ থেকে নেমে এসেছিল ৫.২৫ শতাংশে। তবে ২০২৬ সালে এখনও পর্যন্ত অনুষ্ঠিত চারটি বৈঠকেই রেপো রেট সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছিল।

চলতি অক্টোবরের এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যা দেশের উৎসবের ভরা মৌসুম। এই সময়ে অটোমোবাইল, ইলেকট্রনিক্স এবং আবাসন বা রিয়েল এস্টেট খাতে ঋণের চাহিদা থাকে তুঙ্গে। কিন্তু রিজার্ভ ব্যাঙ্ক যদি সত্যিই রেপো রেট ০.২৫ শতাংশ বৃদ্ধি করে, তবে ব্যাঙ্কগুলির এক্সটার্নাল বেঞ্চমার্ক লেন্ডিং রেট বা ইবিএলআর তৎক্ষণাৎ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের জন্য নতুন ঋণ নেওয়া আরও অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। শুধু তাই নয়, বিদ্যমান বাড়ি ও গাড়ির ঋণের গ্রাহকদের মাসিক কিস্তি বা ইএমআই উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যেতে পারে, যা আসন্ন উৎসবের মরসুমে সামগ্রিক ভোক্তা চাহিদার উপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রেপো রেট মূলত সেই নির্দিষ্ট হার, যে সুদে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে অর্থ ঋণ হিসেবে প্রদান করে। রেপো রেট বৃদ্ধি পেলে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলির জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক থেকে পুঁজি সংগ্রহ করা ব্যয়বহুল হয়ে পড়ে, এবং ব্যাঙ্কগুলি সেই অতিরিক্ত খরচের বোঝা ঘুরিয়ে গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেয়। এর ফলে গৃহঋণ, গাড়িঋণ এবং ব্যক্তিগত ঋণের সুদের হার ও ইএমআই হু হু করে বেড়ে যায়। তবে এর একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে, তা হল ঋণ ব্যয়বহুল হয়ে পড়ায় ব্যাঙ্কগুলি সাধারণ আমানতকারীদের আকৃষ্ট করতে ফিক্সড ডিপোজিট বা এফডি-র সুদের হারও বৃদ্ধি করতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রেপো রেট কমানো বা বাড়ানোর মূল অস্ত্রটি ব্যবহৃত হয় মূলত দেশের মুদ্রাস্ফীতি বা মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের জন্য। যখন অর্থনীতিতে মুদ্রাস্ফীতির হার অতিরিক্ত থাকে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক বাজারে অর্থের প্রবাহ বা লিকুইডিটি কমাতে পলিসি রেট বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে ঋণ গ্রহণের খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় বাজারে অর্থের জোগান কমে যায় এবং চাহিদাও হ্রাস পায়, যা শেষ পর্যন্ত মুদ্রাস্ফীতিকে ঠান্ডা করতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, অর্থনীতি যখন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়, তখন পরিস্থিতি পুনরুদ্ধার করতে সুদের হার কমিয়ে বাজারে অর্থের জোগান বাড়ানো হয়। এখন দেখার বিষয়, আগামী ৭ অক্টোবর গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রার ঘোষণায় সাধারণ মানুষের পেমেন্ট ও বাজেটে ঠিক কী ধরনের পরিবর্তন আসে।