মমতার মন্তব্য নিয়ে মামলা করতেই হাইকোর্টে চরম তিরস্কার! আইনজীবীকে কী এমন বললেন প্রধান বিচারপতি?

বাংলাদেশের হাসিনা-বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি মন্তব্য ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছিল রাজ্য রাজনীতিতে। সেই মন্তব্যের বিরুদ্ধে কলকাতা হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হলে, মঙ্গলবার উলটে মামলাকারী এবং তাঁর আইনজীবীকে চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী ও বিচারপতি অরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ সাফ জানিয়ে দেয়, কেউ কিছু মন্তব্য করলেই আদালত তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।
গত ২ জুন ধর্মতলার ওয়াই চ্যানেলের এক বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, ওসমান হাদির খুনে অভিযুক্তরা মেঘালয় সীমান্ত হয়ে ভারতে এবং পরে পশ্চিমবঙ্গে প্রবেশ করেছে এবং তাদের আশ্রয় দিয়েছে কেন্দ্র। এমনকি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ করেছিল বলেও দাবি করেন তিনি। এই মন্তব্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং জাতীয় নিরাপত্তার পরিপন্থী—এই অভিযোগ তুলেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন মামলাকারী অভ্রতনু সরকার।
এদিন শুনানির শুরুতেই ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি মামলাকারীর উদ্দেশ্য ও পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। মামলাকারীর আইনজীবীর বানান ভুল নিয়েও তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আদালত জানায়, জনস্বার্থ মামলাকে ব্যক্তিগত হাতিয়ার বানিয়ে ফেলা হচ্ছে। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে অ্যাডিশনাল সলিসিটর জেনারেল ধীরজ ত্রিবেদী জানান, এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে ইউএপিএ ধারা বা এনআইএ তদন্তের মতো আইনি ভিত্তি তৈরি হয় না। রাজ্যও জানায়, অপরাধ সংঘটিত না হলে এফআইআর করা যায় না। আদালত মামলাকারীকে নিজে থেকে মামলা তুলে নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে, অন্যথায় আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর এই মামলায় চূড়ান্ত নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।