মন্ত্রী হয়ে আয় কমেছে’ পদ ছাড়ার ইচ্ছাপ্রকাশ কেরলের বিজেপি সাংসদ সুরেশ গোপীর, রাজনৈতিক মহলে তীব্র জল্পনা

কেরলে বিজেপির প্রথম লোকসভা সাংসদ হিসেবে ইতিহাস তৈরি করার কয়েক মাসের মধ্যেই কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়ার আকস্মিক ইচ্ছাপ্রকাশ করে জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র জল্পনা সৃষ্টি করেছেন অভিনেতা-সাংসদ সুরেশ গোপী। রবিবার দলীয় এক অনুষ্ঠানে তাঁর এই মন্তব্য এবং একই সঙ্গে বর্ষীয়ান নেতা সি সদানন্দন মাস্টারকে মন্ত্রী করার সুপারিশ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
আয় কমে যাওয়ায় অসন্তোষ:
অভিনেতা থেকে রাজনীতিতে আসা সুরেশ গোপীর এই পদক্ষেপকে আপাতদৃষ্টিতে ‘দলের প্রতি আনুগত্য’ মনে হলেও, তাঁর মন্তব্যের পর সেই ধারণা বদলে গিয়েছে। তিনি সরাসরি বলেন, “আমি অভিনয় জীবন ছেড়ে মন্ত্রী হতে চাইনি।” কিন্তু সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত মন্তব্যটি আসে এর পরেই:
“মন্ত্রী হওয়ার পর আমার আয় কমে গিয়েছে।”
কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মুখ থেকে এমন ব্যক্তিগত লাভ-ক্ষতির কথা প্রকাশ্যে আসায় বিপাকে পড়েছে বিজেপি শিবির। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, গোপীর এই স্বীকারোক্তি তাঁর রাজনৈতিক অপরিপক্বতা এবং মোহভঙ্গেরই ইঙ্গিত। অভিনয়ের গ্ল্যামারাস জগৎ এবং মন্ত্রিত্বের গুরুদায়িত্বের ফারাক হয়তো তিনি টের পাচ্ছেন।
‘সুচতুর রাজনৈতিক চাল’ নাকি ‘চাপ সৃষ্টির কৌশল’?
যদিও রাজনৈতিক মহলের অন্য একটি অংশের ব্যাখ্যা ভিন্ন। তাঁদের মতে, এটি নিছকই এক সুচতুর রাজনৈতিক চাল। সদানন্দন মাস্টারকে মন্ত্রী করার সুপারিশ করে গোপী এক তীরে একাধিক পাখি মারতে চেয়েছেন:
১. অভ্যন্তরীণ বার্তা: তিনি কেরল বিজেপির অন্দরে থাকা বর্ষীয়ান নেতাদের কাছে নিজের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করেছেন।
২. ভাবমূর্তি প্রতিষ্ঠা: এই ‘ত্যাগের’ ঘোষণার মাধ্যমে তিনি নিজেকে ‘পদের জন্য লালায়িত নন’ এমন এক ‘অনিচ্ছুক নায়ক’ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছেন।
তবে প্রশ্ন উঠেছে তাঁর ঘোষণার সময় নিয়ে। কেন তিনি দলের অভ্যন্তরীণ বৈঠকে এই প্রস্তাব না দিয়ে প্রকাশ্যে এই মন্তব্য করলেন? বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এটি কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের উপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টির কৌশলও হতে পারে।
বাম শিবিরের কড়া আক্রমণ:
সুরেশ গোপীর এই মন্তব্য নিয়ে ছেড়ে কথা বলছে না কেরলের বাম শিবির। তাদের স্পষ্ট কথা, ব্যক্তিগত লাভের জন্যই অভিনেতা রাজনীতিতে এসেছিলেন। সেই লাভ-ক্ষতির অঙ্ক মেলাতে না পেরেই তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
কন্নুর বামেদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। বামেরা এখন নিশ্চিত করতে চায় যে গোপী সাংসদ পদ থেকে পদত্যাগ করলে উপনির্বাচনে যেন আর আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি না হয়। সব মিলিয়ে, সুরেশ গোপীর এই ‘নাটকীয়’ পদত্যাগের ইচ্ছা কেরলের রাজনীতিতে বিজেপির অভ্যন্তরীণ রসায়ন এবং তারকা প্রার্থীদের রাজনীতির দীর্ঘস্থায়িত্ব নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে।