মধ্যরাতে ৭ ঘণ্টার মেগা ব্লক! অত্যাধুনিক প্রযুক্তিতে শিয়ালদার পরিকাঠামো বদলে ফেলল পূর্ব রেল, জানুন বিশদ বিবরণ

শিয়ালদা ইয়ার্ডে ট্রেন চলাচল আরও নিরাপদ, সুগম ও নির্বিঘ্ন করার লক্ষ্যে পরিকাঠামোগত উন্নয়নে এক বড়সড় সাফল্য অর্জন করল পূর্ব রেল। পূর্ব রেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিয়ালদা স্টেশন সীমার অন্তর্গত ডাউন মেন লাইনে অত্যন্ত নিখুঁত ও সুশৃঙ্খলভাবে একটি জটিল ট্র্যাক নবীকরণ ও আধুনিকীকরণের কাজ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্ধারিত ট্রাফিক ব্লক বা টি-ব্লকের মাধ্যমে এই কাজ সম্পাদিত হয়। যদিও এই কাজের জন্য মধ্যরাত ১২টা থেকে সকাল ৭টা পর্যন্ত ট্রাফিক ব্লক মঞ্জুর করা হয়েছিল, তবে সিগন্যাল ইন্টারলকিং-৪ এবং যথাযথ সমন্বয় ও পত্রালাপের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ের আগেই, অর্থাৎ সকাল ৬টা ৪০ মিনিটেই সমস্ত কাজ সফলভাবে সম্পন্ন করে ট্র্যাক খুলে দেওয়া হয়। সিনিয়র সেকশন ইঞ্জিনিয়ার এবং পার্মানেন্ট ওয়ে উইংয়ের তত্ত্বাবধানে এই মেগা প্রজেক্টটি বাস্তবায়িত হয়।

এই বৃহৎ পরিকাঠামোগত উন্নয়নমূলক কাজটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন শিয়ালদা ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার রাজীব সাক্সেনা। তাঁর নির্দেশেই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে ট্র্যাক আধুনিকীকরণের কাজটি সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে। এই কাজের আওতায় রেলের পক্ষ থেকে একাধিক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ছিল ৫২ কিলোগ্রাম রেল থেকে উন্নত ৬০ কিলোগ্রাম রেলে নির্দিষ্ট পয়েন্টগুলোর সম্পূর্ণ ফিটিংস-সহ রূপান্তর। পাশাপাশি, ৬টি প্রিফ্যাব্রিকেটেড ৬০ কিলোগ্রাম গ্লুড ইনসুলেটেড রেল জয়েন্ট স্থাপন, ১১২ মিটার ৬০ কিলোগ্রাম নতুন রেল স্থাপন এবং সিগন্যাল ও টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের মাধ্যমে একাধিক পয়েন্ট মোটরকে আরও আধুনিক আইআরএস গ্রাউন্ড ফিটিংস-সহ পরিবর্তন করা হয়েছে।

এই বিশাল কর্মযজ্ঞকে সফল করতে বিপুল পরিমাণ মানবসম্পদ ও আধুনিক সরঞ্জাম মাঠে নামানো হয়েছিল। প্রকল্পে ৮০ জন দক্ষ শ্রমিক, ৬টি ফিটার ব্যাচ, গ্যাস কাটিং সেট, বিভাগীয় ফিটার এবং ৪২ জন ট্র্যাকম্যান অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। কাজের অগ্রগতি সরাসরি তদারকি করতে ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন শিয়ালদার অ্যাডিশনাল ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার-১, সিনিয়র ডিভিশনাল ইঞ্জিনিয়ার এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ার-সহ রেলের একাধিক শীর্ষস্থানীয় আধিকারিক। রেলের এই মেগা প্রজেক্টের ফলে আগামী দিনে শিয়ালদা স্টেশনে ট্রেনের সময়ানুবর্তিতা আরও উন্নত হবে এবং যাত্রীরা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক যাতায়াতের অভিজ্ঞতা লাভ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।