মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আর তেলের দামের ছাঁচে বড় ধাক্কা! হু হু করে বাড়ছে রাসায়নিকের দাম, পকেট ফাঁকা হবে সাধারণের?

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বিশ্ব বাজারে কাঁচা তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার সরাসরি প্রভাব পড়তে শুরু করেছে রাসায়নিক বা কেমিক্যাল সেক্টরে। ডোলার ক্যাপিটালের (Dolat Capital) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অগস্টে (অগস্ট ২০২৬) বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কেমিক্যালের দাম এক ধাক্কায় অনেকটাই বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে সামগ্রিক বাজার এখনও বেশ দুর্বল রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

দাম বাড়ার মূল কারণগুলি কী কী?

  • মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও কাঁচা তেল: গত মাসে বিশ্ব বাজারে কাঁচা তেলের দাম প্রায় ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। এর জেরে বেনজিন, টলুইন, মিথানল, প্রপিলিন এবং ইথিলিনের মতো প্রধান কেমিক্যালগুলির উৎপাদন খরচ ও দাম একলাফে অনেকটাই বেড়ে যায়।

  • সরবরাহে বিঘ্ন: ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের টানাপোড়েন তৈরি হয়। এর ফলে ব্রোমিন (আর্চিয়ান কেমিক্যালস, জিএইচসিএল এবং নিওজেনের সঙ্গে সম্পর্কিত) কেমিক্যালের দাম এক মাসেই প্রায় ২৮ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়।

  • অন্যান্য কেমিক্যালের ঊর্ধ্বমুখী দাম: অগস্টে ফেনল এবং অ্যাসিটোনের দাম যথাক্রমে ৩ শতাংশ এবং ১৫ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি, আইপিএ (IPA) ১০ শতাংশ, প্রপিলিন ১৯ শতাংশ, ইথিলিন ১৭ শতাংশ এবং বেনজিন ও টলুইনের দাম যথাক্রমে ৯ শতাংশ ও ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাজারে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও চাহিদার চিত্র

দাম সাময়িকভাবে বাড়লেও সামগ্রিক বাজার পরিস্থিতি এখনও বেশ মন্থর। ডোলার ক্যাপিটালের রিপোর্ট জানাচ্ছে, চলতি ত্রৈমাসিকে (Q2FY27) অধিকাংশ কেমিক্যালের গড় দাম প্রথম ত্রৈমাসিকের (Q1FY27) তুলনায় এখনও বেশ কিছুটা কম রয়েছে।

  • PVC এবং পলিমার: সরকারের তরফ থেকে ধার্য করা ন্যূনতম আমদানি মূল্যের (Minimum Import Price) সুবাদে পিভিসি (PVC)-র দাম বেড়ে প্রতি কেজিতে প্রায় ৯৫ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এবিএস (ABS) এবং পলিস্টাইরিনের দামও প্রায় ৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

  • রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস: বাজারে রেফ্রিজারেন্ট গ্যাসের চাহিদা বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে। কাঁচামাল ও সাপ্লাই কাটের জেরে আগামী দিনে R-22 এবং R-134a গ্যাসের দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে, মৌসুমি বৃষ্টির কারণে কস্টিক সোডার চাহিদা কিছুটা কমেছে এবং উদ্বৃত্ত মজুতের জেরে এর দাম কিছুটা চাপের মুখে রয়েছে।

গ্রাহকদের মধ্যে বড় পরিমাণে স্টক বা ইনভেন্টরি ধরে রাখার অনীহা এবং আমদানির গতি শ্লথ থাকায় কেমিক্যাল বাজারের ভবিষ্যৎ গতিপ্রকৃতি নিয়ে মিশ্র ধারণা বজায় রয়েছে।