মতুয়াদের জন্য ৫০ কোটির মেগা মাস্টারস্ট্রোক! ঠাকুরনগরকে পুরসভা করার বিরাট ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর!

মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে প্রথমবার মতুয়া-গড় ঠাকুরনগরে এসে মতুয়া সম্প্রদায়ের উন্নয়নে একগুচ্ছ ধামাকা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। আন্তর্জাতিক মতুয়া গোঁসাই সম্মেলনের মঞ্চ থেকে তিনি মতুয়া বোর্ডের জন্য সরাসরি ৫০ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করেন। সেইসঙ্গে আগামী দিনে ঠাকুরনগরকে একটি পৃথক ও পূর্ণাঙ্গ পুরসভা (Municipality) হিসেবে গড়ে তোলার জোরালো প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন তিনি। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন বা সিএএ (CAA) প্রসঙ্গ টেনে মুখ্যমন্ত্রী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় জানান, রাজ্যে প্রায় আড়াই লক্ষ সিএএ আবেদনকারী রয়েছেন। আগামী ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে বৈধ আবেদনকারীদের হাতে নাগরিকত্ব সার্টিফিকেট তুলে দেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, সার্টিফিকেট পাওয়ার পরই যাতে তাঁরা দ্রুত তফশিলি জাতি বা এসসি (SC) শংসাপত্র এবং ভোটার তালিকায় নাম তুলতে পারেন, তার সম্পূর্ণ ব্যবস্থা করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। পাশাপাশি, মতুয়া সমাজের প্রবীণ নাগরিকদের জন্য বার্ধক্য পেনশন, অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার যোজনা, মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা এবং আয়ুষ্মান ভারত কার্ডের সুবিধা যাতে প্রতিটি পরিবার পায়, তার জন্য সরাসরি নবান্ন থেকে বিশেষ নজরদারি চালানো হবে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানের শুরুতেই নিজের সরকারি গাড়ি ছেড়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শান্তনু ঠাকুরের গাড়িতে চড়ে ঠাকুরবাড়িতে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এরপর হরিচাঁদ ঠাকুর, গুরুচাঁদ ঠাকুর ও শ্রীশ্রী বীণাপাণি দেবীর মন্দির পরিদর্শন করেন এবং ঠাকুরবাড়ির ঐতিহ্যবাহী নাটমন্দিরে আয়োজিত সম্মেলনে যোগ দেন। অতীতে মতুয়া সমাজকে রাজনৈতিক ফায়দার জন্য বিভক্ত করার অপচেষ্টা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলে পরোক্ষভাবে রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূল নেতা জ্যোতিপ্রিয় মল্লিককে তীব্র আক্রমণ করেন তিনি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, অতীতে মতুয়া পরিবার ও সমাজকে ভাঙার যে রাজনীতি চলেছে, তা আর বরদাস্ত করা হবে না। ঠাকুরবাড়ির সার্বিক বিকাশ এবং মতুয়া সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের না-পাওয়া অধিকার সুনিশ্চিত করতেই বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর।